পদ্মা ও মেঘনা নদীবেষ্টিত ছয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা শরীয়তপুর। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ জেলায় রয়েছে তিনটি সংসদীয় আসন। স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত বিগত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে কেউ এ জেলার কোনো আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শরীয়তপুরের রাজনৈতিক চিত্রেও এসেছে বড় ধরনের রূপান্তর।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় সারা দেশের মতো শরীয়তপুরেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আমূল পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে না পারায় জেলার তিনটি আসনেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি এই পরিস্থিতিকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।
মাঠপর্যায়ে দলটির নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছেন। সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বর্তমানে শরীয়তপুরে বিএনপি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা), শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) এবং শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-গোসাইরহাট-ভেদরগঞ্জ একাংশ) আসনগুলোয় ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন একদলীয় প্রভাব থাকায় ভোটাররা এখন বিকল্প নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকছেন
শরীয়তপুর-১: আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার বিপরীতে আছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সভাপতি মো. তোফায়েল আহমেদ, এনসিপির আব্দুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের ফিরোজ আহমেদ। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও ঘোড়া প্রতীকে মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা নির্বাচনী মাঠে আছেন।
এ আসনে বিএনপির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় ধানের শীষের বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শরীয়তপুর-২: এখানে ধানের শীষ প্রতীকে জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরন নির্বাচন করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদ হোসেন বকাউল মাঠে রয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের ইমরান হোসেন (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান (বটগাছ), গণঅধিকার পরিষদের আখতারুজ্জামান সম্রাট (ট্রাক), জাতীয় পার্টির জসিম উদ্দিন (লাঙ্গল) এবং জনতার দলের পারভেজ মোশাররফ (কলম) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কম্পিউটার প্রতীকে আলমগীর হোসেন ও সোফা প্রতীকে মো. নাসির নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন। এ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও শেষ হাসি বিএনপি প্রার্থী হাসবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
শরীয়তপুর-৩: এখানে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার বিপরীতে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মো. আজহারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির আব্দুল হান্নান এবং ইসলামী আন্দোলনের হানিফ মিয়া
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত হওয়ায় নুরুদ্দিন অপুকে ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে এ আসনেও ধানের শীষের বিজয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর শরীয়তপুরের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা কীভাবে পূরণ হয়, সেটিই এখন জেলার ভোটারদের পাশাপাশি সারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

আরও পড়ুন
নাসিরনগরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
হাতপাখার মনোনীত প্রার্থীর সন্তানকে মারধরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন!
কালকিনিতে প্রায় ৪ মণ জাটকা জব্দ: ২৮ হাজার টাকা জরিমানা!