Monday, January 26th, 2026, 12:16 am

গুলশানে নির্মাণাধীন ভবন থেকে রড পড়ে মৃত্যু, কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান-এমডির বিরুদ্ধে মামলা

উপর থেকে রড পড়ে মাথায় আঘাত লাগার আগ মুহূর্তের ছবি।

 

রাজধানীর গুলশানে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে রড পড়ে এক বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। রডটি কোথা থেকে এবং কীভাবে পড়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা

নিহত আশফাকুজ্জামান চৌধুরী (৪৫) ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি গুলশানের ১৪০ নম্বর সড়কের ২২ নম্বর ভবনের সামনের ফুটপাথে সহকর্মীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ওপর থেকে একটি রডের টুকরা তার মাথায় ঢুকে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা

নিহতের শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম তালুকদার ওই দিন মধ্যরাতে গুলশান থানায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলায় ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কনকর্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল, চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন এবং প্রজেক্ট ইনচার্জ আল আমিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, রাস্তার অপর পাশে ১৪০ নম্বর সড়কের ১ নম্বর প্লটে কনকর্ড গ্রুপের নির্মাণাধীন ২৫ তলা ভবনের কাজ চলছিল। সেখানে যথাযথ নিরাপত্তা ও সতর্কতা অবলম্বন না করায় ওপর থেকে রড পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি “চূড়ান্ত রকমের দায়িত্বে অবহেলা ও অপরাধমূলক গাফলতি”, যার দায় কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

পুলিশ কী বলছে

গুলশান বিভাগের উপ কমিশনার রওনক আলম গণমাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। রডটি কোথা থেকে এসে পড়েছে এবং কার দুর্বলতা রয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।”

কনকর্ড গ্রুপের দাবি

ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে কনকর্ড গ্রুপ বলেছে, একটি পক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠানের ওপর ‘মিথ্যা দায়’ চাপানোর চেষ্টা করছে।

নিহতের পরিবারের আর্তনাদ

নিহতের শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মামলায় যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ তিন দিনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি বলেন, “আমার একমাত্র মেয়ের জামাতার মৃত্যুতে পুরো পরিবার হতভম্ব। অল্প বয়সে মেয়েটি বিধবা হলো। ১১ বছরের এক নাতনি আছে, সে পড়াশোনা করে। এখন এই পরিবারের দায়িত্ব কে নেবে?”

ভবন নির্মাণে এমন অবহেলার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এনএনবাংলা/