অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন না হলেও প্রকাশকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্টল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন পবিত্র রমজানকে বিবেচনায় নিয়ে এই ছাড়ের নির্দেশনা দিয়েছেন উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পরিচালক মো. আবুল বাশার ফিরোজ শেখ গণমাধ্যমকে জানান, দেশের চলমান অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রকাশকদের জন্য আগের নির্ধারিত উচ্চ ভাড়া পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ অবস্থায় সমিতির পক্ষ থেকে স্টল ভাড়া কমানোর যে আবেদন জানানো হয়, মন্ত্রণালয় তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমও ভাড়া কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রকাশকদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে ২৬২ জন প্রকাশক ঈদের পর বইমেলা আয়োজনের দাবি জানালেও বাংলা একাডেমি সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। অধ্যাপক আজম স্পষ্ট করে জানান, মেলা পেছানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই এবং নির্ধারিত তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারিতেই অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে।
উল্লেখ্য, সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সময় মেলা ডিসেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আপত্তির কারণে তা স্থগিত হয়। পরে নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ঘোষণা করলে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মতিতে ২০ ফেব্রুয়ারি মেলার উদ্বোধনের দিন নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলার প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছে। আয়োজকদের তথ্যমতে, প্রস্তুতির প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্টল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে।
মেলার সময়সীমা নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ থাকলেও স্টল ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্তে অধিকাংশ প্রকাশক স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনী আবহ ও পবিত্র রমজানের মতো দুই চ্যালেঞ্জের মধ্যেও অমর একুশে বইমেলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাংলা একাডেমি কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি এবারের মেলায় প্রকাশকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
২২ বছর পর ময়মনসিংহে তারেক রহমান, জনসভা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা, প্রস্তুত ইসরায়েল
ঢাকা-৮ এ মেঘনা আলমের ব্যতিক্রমী নির্বাচনী প্রচারণা