ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরও ভয়াবহ হামলার হুমকিতে ইরান মোটেও ভীত নয়। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং ‘ট্রিগারে আঙুল রাখা’ অবস্থায় আছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর কোনো হামলা চালায়, তাহলে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট করে জানান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন আব্বাস আরাগচি। তিনি লেখেন, ইরানের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্থল, আকাশ ও সমুদ্র সীমান্তের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে তারা তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।
আরাগচি বলেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের কয়েক দিনব্যাপী সামরিক হামলা এবং একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর চালানো হামলা থেকে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছে। তার ভাষায়, ‘১২ দিনের যুদ্ধ আমাদের এমন অভিজ্ঞতা দিয়েছে, যা ইরানকে আরও শক্তিশালী, দ্রুত এবং গভীরভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা দিয়েছে।’
এর আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলার হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা প্রয়োজনে দ্রুত ও সহিংসভাবে নিজেদের মিশন বাস্তবায়নে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটেই এই হুমকি আসে।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি আশা করছেন ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তিতে সম্মত হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তিনি আবারও দাবি করেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে তেহরান কোনো চুক্তিতে রাজি না হলে পরবর্তী হামলা আরও ভয়াবহ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
চলতি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় ট্রাম্প একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বেড়ে যায়। মাসের শুরুতে আব্বাস আরাগচি বলেছিলেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানকে ‘পরীক্ষা’ করতে চায়, তাহলে দেশটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। পরে বিক্ষোভ দমন হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং ট্রাম্প তখন দাবি করেন, ইরান বিক্ষোভকারীদের পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে চলতি সপ্তাহে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যায়, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরি ওই অঞ্চলে মোতায়েন করে। এতে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আদনান হায়াজনেহ বলেন, এই রণতরি মোতায়েন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্ষমতা প্রদর্শনের’ অংশ। এর মাধ্যমে তেহরানকে বার্তা দেওয়া হয়েছে—ওয়াশিংটনের শর্ত না মানলে সামরিক হামলার পথ খোলা রয়েছে।
হায়াজনেহ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কূটনীতির পথে যাবে নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বর্তমান হুমকি ও চাপের কৌশলের উদ্দেশ্য হলো ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা। তার মতে, ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে চায়, যা অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের আধিপত্যের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একই সঙ্গে তেহরান যখন অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চেষ্টা করছে।
ইরান বরাবরের মতোই দাবি করছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তাদের রয়েছে। তবে গত জুনে হামলার পর থেকে দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান এখনো অজানা।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
১ ফেব্রুয়ারি থেকে টেক্সটাইল মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত
দুই মাস আগে পদত্যাগ করেও সরকারি বাসায় আসিফ ও মাহফুজ
নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে আসছে কমনওয়েলথ ও ইইউর বড় দল