Friday, January 30th, 2026, 3:40 pm

জামায়াত ও আওয়ামী লীগ একই ‘মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’: মাহফুজ আলম

ছবি: দ্য ইউক

 

অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই ‘মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’ বা একে অপরের ‘অল্টার ইগো’। তার ভাষ্য, দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও থাকবে, আবার জামায়াত থাকলেও আওয়ামী লীগ টিকে থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইউকে–এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার পেছনে এই রাজনৈতিক সমীকরণকেই বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরেন মাহফুজ আলম। তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ শক্তিকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল তার।

তবে, এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা ‘ওল্ড পলিটিক্যাল সেটেলমেন্ট’-এর অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

জামায়াত প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, ‘যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে, তারা পুরনো কাঠামোরই অংশ। জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এমন অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, যার কোনো উত্তর আমাদের কাছে নেই। কারণ, বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের স্বচ্ছ কোনো ভিশন বা পরিকল্পনা নেই।’

তিনি মনে করেন, আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির দিক থেকেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামায়াতের মেলবন্ধন সম্ভব নয়।

গত দেড় বছরের রাজনৈতিক পথচলাকে তিনি এক ধরনের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা ‘ওল্ড পলিটিক্যাল সিস্টেম’ নতুন রূপে ফিরে এসে জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক করে মাহফুজ আলম বলেন, ক্ষমতায় যে দলই আসুক—বিএনপি বা জামায়াত—সমাজের ভেতরের ক্ষত সারাতে না পারলে কোনো সরকারই দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

তার ভাষায়, শুধু কাগুজে সংস্কার যথেষ্ট নয়; ভিন্নমত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা ‘রিনেগোসিয়েশন’ জরুরি। তা না হলে সমাজে মব ভায়োলেন্স ও অস্থিরতা চলতেই থাকবে।

গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থার সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, বাংলাদেশের মানুষ গণমাধ্যমকে বিশ্বাস করে না। জনগণের বিশ্বাস ফেরাতে গণমাধ্যমকে অতীতের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা ও এক ধরনের ‘বোঝাপড়ার জায়গায়’ আসতে হবে।

বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে আছেন মাহফুজ আলম। তিনি বই পড়া এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে কথা বলেই সময় কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি খুঁজে দেখছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা গেল না এবং সামনে এগোনোর পথ কী হতে পারে।

এনএনবাংলা/