Friday, January 30th, 2026, 9:28 pm

সামরিক হামলা এড়াতে ইরানকে ট্রাম্পের দুই শর্ত

 

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদারের মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক হামলা এড়াতে ইরানকে অবশ্যই দুটি শর্ত মানতে হবে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমত, ইরানের কোনো পারমাণবিক কর্মসূচি থাকতে পারবে না এবং দ্বিতীয়ত, দেশটিকে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে হবে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “প্রথম—কোনো পারমাণবিক কর্মসূচি নয়। দ্বিতীয়—বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে হবে। তারা হাজারে হাজারে মানুষকে হত্যা করছে।” তিনি আরও জানান, “আমাদের অনেক বড় ও অত্যন্ত শক্তিশালী জাহাজ ইরানের দিকে এগোচ্ছে। আমরা যদি এগুলো ব্যবহার না করেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারি, সেটাই সবচেয়ে ভালো হবে।”

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের মন্তব্য সেই প্রেক্ষাপটেই এসেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া” জানাতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, বাহিনী “ট্রিগারে আঙুল রেখে” অপেক্ষায় রয়েছে।

আরাগচি শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান, যেখানে মার্কিন সামরিক হামলার সম্ভাব্য হুমকি এড়ানো এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান জানান, আঙ্কারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসে সহায়তা করতে আগ্রহী।

ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন তার স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে। একই সপ্তাহে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, “আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং একটি ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছাবে—যেখানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।”

এর জবাবে আরাগচি বলেন, ইরান সবসময়ই পারস্পরিক লাভজনক ও ন্যায্য পারমাণবিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তিনি বলেন, “এটি হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে, ভয়ভীতি ও হুমকিমুক্ত। পারমাণবিক অস্ত্র আমাদের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ নয় এবং আমরা কখনোই তা অর্জনের চেষ্টা করিনি।”

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, কিছু বার্তা আদান–প্রদান হলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না।

চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের “উদ্ধার” করতে এগিয়ে আসবে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে ইরানি মুদ্রার বড় ধরনের পতনের পর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হরানা জানিয়েছে, অস্থিরতার পর থেকে অন্তত ৬,৪৭৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত, যার মধ্যে ৬,০৯২ জন বিক্ষোভকারী, ১১৮ শিশু এবং ২১৪ সরকারি কর্মকর্তা। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এ পর্যন্ত ৩,১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা ‘দাঙ্গাকারীদের’ হামলায় নিহত।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ডসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং ইরানের ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এনএনবাংলা/