জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে। গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। বাগান অধ্যুষিত এলাকা ও নতুন ভোটারদের সমর্থন পেতে জোর প্রচারণায় তৎপর রয়েছেন প্রার্থীরা। তারা দিনরাত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট কামনা করছেন। আর ভোটাররাও তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভালো-মন্দসহ এলাকার নানা দাবি নিয়ে আলোচনা করছেন। প্রার্থীরা চা-বাগান এলাকায় অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও জীবনমান উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
এ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতায় নামলেও ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, ফুটবল, কাঁপ-পিরিচ প্রতীকের মধ্যেই মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভোটাররা মনে করছেন। এছাড়া বাকি প্রার্থীরাও ভোটের মাঠে জোরেসোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সকল প্রার্থীরা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার, গ্রামে-গঞ্জে উঠান বৈঠক, ছোট-বড় সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বিয়েশাদি, মৃত্যু, জানাজাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ভোটারদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। নির্বাচনী মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু ধানের শীষ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী দাঁড়িপাল্লা, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান ফুটবল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক খান সাহেদ কাপ-পিরিচ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত আব্দুল কুদ্দুস হাতপাখা, জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. আব্দুল মালিক লাঙ্গল, বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী কাঁচি প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম. জিমিউর রহমান চৌধুরী ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন।
কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি’র সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, কুলাউড়ার প্রত্যেকটি চা বাগানে বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকুর ব্যাপক প্রচারণা চলছে। চা শ্রমিকরা অত্যন্ত সচেতন। যেহেতু এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মাঠে নেই। রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হিসেবে চা-শ্রমিকরা বিএনপিকেই বেছে নিবে এবং ধানের শীষে ভোট দিবে বলে আমরা শতভাগ আশাবাদী।
বিএনপির প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর এদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। তারা বিএনপিকে ভোট দিতে চায়। আগামী সরকার বিএনপি গঠন করতে যাচ্ছে এ বিষয়টি জনগণের কাছে পরিস্কার। তাই কুলাউড়ার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে কুলাউড়াবাসী, বিশেষ করে চা-শ্রমিকসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন বিএনপির পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছে। আমি আশাবাদী ধানের শীষে ভোট দিয়ে কুলাউড়ার মানুষ আমাকে তাদের সেবক নির্বাচিত করবে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী বলেন, কুলাউড়া আসনে অতীতে একাধিকবার অন্য দলগুলোকে ভোট দিয়ে প্রত্যাশিত কোন উন্নয়নই হয়নি। মানুষের ধারণা জন্মেছে এবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় জামায়াতে ইসলামী যাবে এবং কুলাউড়ার সন্তান ডাঃ শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি আরও বলেন কুলাউড়ার চা-শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবো।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান বলেন, কুলাউড়া আমার ভালোবাসার জায়গা। এই এলাকার মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি অতীতে সংসদ সদস্য হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। আগামীতেও কুলাউড়ার সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে তুলে ধরতে আপনাদের সমর্থন ও ভোট প্রত্যাশা করছি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ বলেন, বিগত দিনে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদে আমি দুইবার ভাইস চেয়ারম্যান ও একবার চেয়ারম্যান ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কুলাউড়াবাসীর উন্নয়নে বৃহৎ পরিসরে কাজ করার জন্য এমপি পদে প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচনী প্রচারণায় সকল শ্রেণীর ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি আমি বিজয়ী হব।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুশাসনের প্রশ্নে তারা আগের চেয়ে অনেকটা সোচ্চার বলে মনে করছেন ভোটাররা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মৌলভীবাজারের চারটি আসনের মধ্যে মৌলভীবাজার-২ আসনেই সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়াতে তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভোটার, চা-শ্রমিক ভোটার এবং তরুণ প্রজন্মের ভোট এবার ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা হলো ৩ লাখ ৩ হাজার ২০। পোস্টাল ভোট ৫ হাজার ৫৯১। মোট ভোট কেন্দ্র ১০৩।

আরও পড়ুন
বোরহানউদ্দিন নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৫
একটা সময় হিন্দু-মুসলমান বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে আমাদের সেই জায়গা থেকে ফিরে আসতে হবে পুতুল
জনকল্যাণমূলক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করলেন জনগনের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে রংপুর-১ আসনের এমপি প্রার্থীগণ