খুলনা :
২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. বদিউজ্জামানকে মাগুরা জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক হিসেবে বদলী করা হয়। সেই আদেশ বাতিল করে বদলী হয়ে আসেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (কেডিএ)। যোগ দেন কেডিএর পরিচালক (এস্টেট) হিসেবে। পরের ৪ বছরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে অসংখ্যবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন তিনি।
তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় আরও দুই দফা বদলী করা হয় মো. বদিউজ্জামানকে। সেই বদলী আদেশ বাতিল করে কেডিএতে আরও বড় পদে ফিরেছেন তিনি। বিশ্ব বসতি দিবসে শেখ মুজিবের পুরানো লিফলেট বিতরণের কারণে গত ১৮ জানুয়ারি তাকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক হিসেবে বদলী করা হয়েছে। এখন তিনি চেষ্টা করছেন কেডিএর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ সদস্য হিসেবে ফেরত আসার। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।
কেডিএ থেকে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে প্রবেশ করা মো. বদিউজ্জামান কেডিএর সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য রুনু রেজার ঘনিষ্ট ছিলেন। তাদের পরিকল্পনা পরের বছরই বড় ধরনের প্লট জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। ২০২২ সালের ২৪ মে কেডিএর ময়ূরী প্রকল্পের ১৫টি প্লট গোপনে ভাগবাটোয়ারা করে নেন বদিউজ্জামানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে রাখতে খুলনার আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে প্লট দেওয়া হয়। রুনু রেজা তার ঘনিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির নামে একাই নেন ৪টি প্লট। এনিয়ে তোলপাড় শুরু হলে অনিয়ম বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের প্লট মাত্র ২৫ লাখ টাকায় নিয়েছেন মো. বদিউজ্জামানসহ কয়েকজন। আর এই প্লট বাগাতে প্লট বরাদ্দের নীতিমালা দফায় দফায় সংশোধন করা হয়। প্লট দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়লে ২০২৩ সালের ১৬ মে মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই খুলনা দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান শুভ প্লট বরাদ্দের নথি তলব করেন। কেডিএর আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় ৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে উঠে আসে এবং প্লট গ্রহিতাদের বাকিটা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সূত্রটি জানায়, দুদকের তদন্ত চলা অবস্থায় ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট মো. বদিউজ্জামানকে বরিশালের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার হিসেবে বদলী করা হয়। কিন্তু রুনু রেজার তদবিরে একমাস পর ২১ সেপ্টেম্বর তিনি কেডিএর সচিব হিসেবে আবার কেডিএতে বদলী হয়ে আসেন। এরপরই প্লট দুর্নীতির তদন্ত গতি হারায়।
সূত্রটি জানায়, ১৫টি পদে পছন্দের লোক নিয়োগ নিতে সাবেক এমপি রুনু রেজার পরিকল্পনায় ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ৮০০ ব্যক্তির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেন মো. বদিউজ্জামান। ২০২২ সালের ৭ অক্টোবর (শুক্রবার) ৬ ক্যাটাগরির পদে ১৫ জনের নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করে কেডিএ। ওই পরীক্ষায় আট শতাধিক প্রার্থী অংশ নেন। শুক্রবার গভীর রাতে লিখিত পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে নেওয়া হয় মৌখিক পরীক্ষা। বিকেলেই ১৬ জনকে চূড়ান্ত নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এই নিয়োগেও বড় ধরনের বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে।
সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর কেডিএর বসতি দিবসের অনুষ্ঠানে শেখ মুজিবের লিফলেট বিতরণ করে সমালোচিত হন তিনি। এনিয়ে আমারদেশে সংবাদ প্রকাশ হলে গত ১৮ জানুয়ারি তাকে বদলী করা হয়।
এ ব্যাপারে মো. বদিউজ্জামান বলেন, নিয়ম মেনেই প্লট বরাদ্দ নিয়েছি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমার সংশ্লিষ্টতা ছিল না। প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরাই বদলী করেন, এখানে আমার হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন
নওগাঁয় ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ আদিবাসী কৃষক নিহত
১২ তারিখ ধানের শীষের সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ভোটও দেবেন: তারেক রহমান
মুরাদনগর কায়কোবাদের নির্বাচনী গণসংযোগ