Saturday, January 31st, 2026, 1:36 pm

৭০ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার কথা স্বীকার করল ইসরাইল

 

গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে ইসরায়েল। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াইনেট নিউজসহ শীর্ষস্থানীয় একাধিক ইসরায়েলি গণমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করে।

দীর্ঘ সময় ধরে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিহতের পরিসংখ্যানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আসছিল ইসরায়েল। তাদের দাবি ছিল, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রকাশিত তথ্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। তবে জাতিসংঘ শুরু থেকেই ওই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছিল। এবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিজেই প্রায় একই সংখ্যার প্রাণহানির হিসাব মেনে নিয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাদের নিজস্ব হিসাবে যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার গাজাবাসী নিহত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যার মধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, নিহতদের মধ্যে কতজন সশস্ত্র যোদ্ধা এবং কতজন বেসামরিক নাগরিক—তা নির্ধারণে সেনাবাহিনী বর্তমানে কাজ করছে।

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানতে চাইলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, চূড়ান্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরে প্রকাশ করা হবে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৭১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নতুন করে ৪৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

গাজা কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু। পাশাপাশি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে নিহতদের নাম ও বয়সসহ বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে আসছে।

ইসরায়েলের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক মহলে গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, বিশেষ করে গাজায় শত শত কবর ধ্বংসের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

এদিকে গাজার ধ্বংসস্তূপের মাঝে আটকে পড়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জরুরি মানবিক সহায়তার অভাব পরিস্থিতিকে চরম থেকে চরমতর পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

এনএনবাংলা/