Saturday, January 31st, 2026, 4:50 pm

রোববার থেকে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে

 

পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আগামীকাল রোববার থেকে টানা নয় মাস পর্যটন বন্ধ থাকবে। আজ শনিবারই চলতি মৌসুমের শেষদিনে শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে যাতায়াত করছে। এরপর নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনগামী কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।

দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও পরিবহন খাতের মানুষদের মধ্যে ইতিমধ্যেই জীবিকা সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে পর্যটন মৌসুম চলে। তবে এবার সময়সীমা কমিয়ে নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নভেম্বর মাসে দ্বীপে পর্যটকদের রাতযাপনও নিষিদ্ধ ছিল।

দ্বীপবাসী অভিযোগ করছেন, সময় কমানোর কারণে পর্যটনের ভরা মৌসুমেও তারা প্রত্যাশিত আয় করতে পারেননি। তাই দীর্ঘ নয় মাস পর্যটন বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের জন্য চরম দুর্ভোগের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক এলেও আয় হয়নি

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রতি দিন গড়ে দুই হাজার পর্যটক করে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক কক্সবাজার থেকে জাহাজে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন। তবে দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা তেমন কোনো লাভ করতে পারেননি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন বলেন, “আজ সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ সব পর্যটক নিয়ে যাতায়াত করবে। কাল থেকে আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকার পরে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‘লাভ তো দূরের কথা, লোকসান’

সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান জানান, “অনেক ব্যবসায়ী সময়মতো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। অধিকাংশ ব্যবসায়ী লাভের পরিবর্তে লোকসানেই পড়েছেন। এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি। কাল থেকে পর্যটক আসা বন্ধ হলে মানুষের দুর্ভোগ শুরু হবে। নির্বাচন পরবর্তী পর্যায়ে পর্যটন চালু হলে হয়তো লোকসান কিছুটা পূরণ করা সম্ভব হবে।”

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “দ্বীপের প্রায় সবাই পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত। হঠাৎ পর্যটন বন্ধ হওয়ার ফলে সবাই হতাশার মুখোমুখি। সময়টা কিছুটা বাড়ালে আগামী নয় মাস পার করা সহজ হতো।”

ঋণের চিন্তায় রিকশাচালকরা

রিকশাচালক নুর আজিম জানান, “আজ থেকে পর্যটক আসা বন্ধ। কাল থেকে আবার মাছ ধরার কাজে নামতে হবে। রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েছিলাম, কিন্তু দুই মাসেও তা শোধ করতে পারিনি। এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ঋণ কীভাবে পরিশোধ করা হবে।”

কটেজ ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, “আমরা এবার কোনো আয় করতে পারিনি। জাহাজ কর্তৃপক্ষ, ঢাকার কিছু বিনিয়োগকারী ও হোটেল ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ব্যবসা গলাকাটা হয়েছে। সরকারের বিধিনিষেধ সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করেছে স্থানীয়দের ওপর। এখন ৯ মাস পর্যটন বন্ধ থাকলে দ্বীপবাসীর দুর্দিন আরও বাড়বে।”

ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খোলার দাবি

দ্বীপের ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটন খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষ জড়িত। মানবিক কারণে অন্তত আরও চার মাস বা কমপক্ষে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটন চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কড়াকড়ি বিধিনিষেধ

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেন্ট মার্টিনে রাতের সময় সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রয়, মোটরসাইকেল ও সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়াও সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের কোনো ক্ষতি করা যাবে না। পর্যটকদের পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন না করার নির্দেশনা রয়েছে। নিজস্ব পানির ফ্লাক্স সঙ্গে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ