Saturday, January 31st, 2026, 7:55 pm

একটা সময় হিন্দু-মুসলমান বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে আমাদের সেই জায়গা থেকে ফিরে আসতে হবে পুতুল

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, আমরা যদি মনে করি কেবল ধানের শীষে ভোট দিলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ, তাহলে আমরা যে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি তা সম্ভব হবে না। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, আমরা কেউ আর ৫ আগস্টের আগের বাংলাদেশে ফিরতে চাই না।

একটা সময় হিন্দু-মুসলমান বিভেদ করা হতো, এরপর দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমাদের সেই জায়গা থেকে ফিরে আসতে হবে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফারজানা শারমিন বলেন, লালপুর-বাগাতিপাড়ায় অবকাঠামোগত নানা সমস্যা রয়েছে। তবে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে যে মানবিকতার বিপর্যয় ঘটানো হয়েছে, সেটিই দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা।দেশের মানুষের মধ্যে ঘৃণা, হিংসা ও বৈষম্যের রাজনীতি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ বছরে অনেক বিএনপি নেতাকর্মীর ছেলেমেয়ে চাকরি পায়নি। আমরা সেই কাজ করতে পারব না। আওয়ামী লীগের যারা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন, পট পরিবর্তনের পর আমরা উল্টো তাদের ঘর পাহারা দিয়েছি।

লালপুর-বাগাতিপাড়ার উন্নয়ন স্থবিরতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত ২০ বছরে এই এলাকায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। মরহুম ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যুর পর উন্নয়ন বন্ধ হয়ে গেছে। একটি পরিবর্তিত ও উন্নয়নমুখী বাগাতিপাড়া গড়তে আপনাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

দলের বিদ্রোহী বা বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ার করে পুতুল বলেন, আমাদের প্রোগ্রামে আসতে অনেককে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দলের সুবিধা নিয়ে এখন দলের বাইরে গিয়ে অনেকে সুবিধাবাদী হতে পারেন। আপনারা রাজনীতি করেন, তাতে আমাদের সমস্যা নেই। তবে ধানের শীষের মানুষকে আপনারা বিপথগামী করতে চাইলে জনগণই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।

দয়ারামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সাজদার রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নাটোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ,বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, সাবেক সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক নেকবর হোসেনসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।