Sunday, February 1st, 2026, 2:33 pm

বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে শেষ মুহূর্তে কী ভাবছে বিএনপি?

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনের আগে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচনে নেমেছেন, তাদের অনেককেই এখনো নির্বাচন থেকে সরিয়ে আনতে পারেনি দলটি।

বিএনপির দফতর সূত্র জানায়, দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় অন্তত ৭১ জন নেতাকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপরও প্রায় ৭৫টি সংসদীয় আসনে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। বহিষ্কারসহ নানা ধরনের সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও তারা প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করেননি, বরং অনেক এলাকায় দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

কোনো কোনো আসনে বিএনপির একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ভোটের মাঠে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আবার বিএনপি যেসব আসনে সমমনা অন্য দলের প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছে, সেখানেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে সমর্থিত প্রার্থীরা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিষ্ক্রিয় করার তৎপরতা অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়। তবে শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কয়েকজন প্রার্থীকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানানো হলেও বেশিরভাগই তাতে সাড়া দেননি। বরং তারা জানিয়েছেন—নির্বাচনে জয়ী হলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গেই থাকবেন।

এ বিষয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা নির্বাচন করছেন তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তার মতে, এসব প্রার্থীর কারণে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের তেমন ক্ষতি হবে না। তিনি বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীরা এখন দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করছেন। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তারাই বরং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”

তবে দলের ভেতরকার বাস্তবতা ভিন্ন বলেই মনে করছেন অনেকে। বেশ কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী ইতোমধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। উদাহরণ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, তাকে কেন্দ্র থেকে ডেকে নির্বাচন না করার অনুরোধ করা হয়েছিল। একইভাবে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির সমর্থন পাওয়া গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির নেতা হাসান মামুন, যা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানিয়েছেন নুর।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া রাশেদ খানের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। আবার কিশোরগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, শেরপুর, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের বিপক্ষে দলেরই বহিষ্কৃত নেতারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন। এসব কারণে অনেক জায়গায় বিএনপির ভোটব্যাংক বিভক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শুরুতেই কঠোর বার্তা না দেওয়ার ফলেই এত বিপুল সংখ্যক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, অনেক এলাকায় জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন না দেওয়ায় তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। আবার যেসব আসনে বিএনপি শরিক দলকে সমর্থন দিয়েছে, সেখানেও স্থানীয় নেতাদের যথাযথভাবে রাজি করাতে পারেনি দলটি।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই। ভোটের ফলাফল পর্যন্ত এই সংকট কতটা প্রভাব ফেলবে—সেটিই এখন দলের প্রধান চিন্তার বিষয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এনএনবাংলা/পিএইচ