Sunday, February 1st, 2026, 4:47 pm

জামায়াত আমিরের ডিভাইস হ্যাকে বঙ্গভবনের ইমেইল ব্যবহারের অভিযোগ

 

বঙ্গভবনের নামে পাঠানো একটি সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি ডিভাইস হ্যাক করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছে দলটি।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহছানুল মাহবুব জোবায়ের।

তিনি বলেন, ডিভাইস হ্যাক করে জামায়াত আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে জঘন্য ও আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল জামায়াত ও দলের আমিরকে হেয় প্রতিপন্ন করা। এ ঘটনায় শনিবার রাতে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম প্রকৃত তথ্যচিত্র তুলে ধরে জানান, শনিবার বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ওই আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়।

ওই সময় ডা. শফিকুর রহমান কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা মাঠে একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এর লাইভ ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। ফলে ওই সময়ে তার পক্ষে পোস্ট করা সম্ভব ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে বিষয়টি জামায়াতের তথ্যপ্রযুক্তি টিমের নজরে আসে। এরপর বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে এক্স অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয় এবং ৫টা ২২ মিনিটে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেই হ্যাকের বিষয়টি জানানো হয়।

তবে এর আগেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ওই আপত্তিকর পোস্টটি শেয়ার করে তার বাংলা অনুবাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে উদ্ধার করতে তিন দিন পর্যন্ত সময় লাগে—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মাহমুদ আলম বলেন, জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি, হ্যাক হয়েছিল তার একটি ডিভাইস।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ওই ডিভাইসে এক্স অ্যাকাউন্ট লগইন করা ছিল। ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে হ্যাকাররা এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট দেয়। বিষয়টি বুঝতে পারার পর সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে এক্সের সব সেশন সমাপ্ত করা হয় এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়। অর্থাৎ এক্স অ্যাকাউন্ট সরাসরি হ্যাক হয়নি।

ডিভাইস কীভাবে হ্যাক হলো—এ প্রসঙ্গে মাহমুদ আলম জানান, গত ২৩ জানুয়ারি বঙ্গভবনের ব্যবহৃত সরকারি ই-মেইল ঠিকানা [email protected] থেকে জামায়াত আমিরের ই-মেইলে একটি বার্তা আসে। ই-মেইলের বিষয় ছিল ‘নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি তথ্য’। সরকারি ই-মেইল মনে করে জামায়াত আমির একটি ডিভাইস থেকে এর অ্যাটাচমেন্ট খুললে সেটি ফিশিং অ্যাটাচমেন্ট হওয়ায় ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে যায়। একই ই-মেইল ঠিকানা থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছেও মেইল পাঠানো হয় বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমের ই-মেইল ঠিকানাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিবের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকের চেষ্টাও করা হয়েছিল গত ১২ জানুয়ারি।

প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার এক মিনিট পরই হ্যাকাররা স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে। জামায়াত বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হ্যাকের তথ্য জানায়। অথচ স্ক্রিনশটটি ভাইরাল করা হয় রাত ১২টার দিকে।

তার ভাষ্য, যদি জামায়াত আমিরের টিম থেকে পোস্টটি দেওয়া হতো, তাহলে ভাইরাল হওয়ার পর মুখরক্ষার জন্য হ্যাকের কথা বলা হতো। অথচ ভাইরাল হওয়ার সাত ঘণ্টারও বেশি সময় আগে জামায়াত বিষয়টি প্রকাশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে এহছানুল মাহবুব বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রচার ও আদর্শে না পেরে প্রতিপক্ষরা জামায়াতকে হেয় করতে হ্যাকের মতো জঘন্য কৌশল বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, শনিবার দুপুরেই জামায়াত আমির এক্সে নারীদের উচ্চশিক্ষা ও ক্ষমতায়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। জামায়াতের নেতৃত্বে ৪৩ শতাংশ নারী, যাদের অধিকাংশই কর্মজীবী। জামায়াত আমিরের পরিবারের নারীরাও কর্মজীবী।

তার প্রশ্ন, যিনি নারীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান, যার সহকর্মী ও পরিবারের নারীরা কর্মজীবী—তিনি কীভাবে নারীদের বাইরে কাজ করা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে পারেন?

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একটি দল জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা করে নারী বিদ্বেষী হিসেবে ভোটের মাঠে পরিচিতি পেয়েছে। নির্বাচনে নারীদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে হ্যাকের মাধ্যমে জামায়াতকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হবে।

এনএনবাংলা/