Sunday, February 1st, 2026, 8:18 pm

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৪০ ঘণ্টায় নিহত ১৪৫ জঙ্গি

 

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের চালানো ভয়াবহ হামলার পর গত ৪০ ঘণ্টায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) কোয়েটায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত পরিচালিত অভিযান এবং চলমান তল্লাশি ও ক্লিয়ারেন্স অপারেশনে এসব জঙ্গি নিহত হন। তিনি দাবি করেন, এত অল্প সময়ে এত বিপুলসংখ্যক জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল, যদিও তিনি এ বিষয়ে অতীতের কোনো পরিসংখ্যান উল্লেখ করেননি।

এর আগে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, এক দিনেই ৯২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। হামলায় ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।

নিষিদ্ধঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি জানায়, গত শুক্রবার গভীর রাত থেকে তারা ‘হেরফ’ বা ‘ব্ল্যাক স্টর্ম’ নামের একটি সমন্বিত অভিযানে কোয়েটা, গোয়াদর, মাস্তুং, নুশকিসহ বেলুচিস্তানের অন্তত ১২টি স্থানে একযোগে হামলা চালায়। বিএলএর দাবি অনুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সামরিক ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং মহাসড়কগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, এসব হামলা ‘ভারত-সমর্থিত জঙ্গিরা’ চালিয়েছে। তবে রোববার এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, “পাকিস্তানের এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ আমরা স্পষ্টভাবে নাকচ করছি।”

তিনি আরও বলেন, ইসলামাবাদের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং বেলুচিস্তানের জনগণের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবিগুলো সমাধান করা।

নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হামলার পর একাধিক জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট যৌথ অভিযান শুরু করে। কয়েকটি জেলার হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, কোনো শহর বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখলের জঙ্গি প্রচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হয়নি।

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ (পিআইপিএস)-এর বিশ্লেষক আবদুল বাসিত বলেন, “বেলুচিস্তানে একসঙ্গে এতগুলো এলাকায় হামলা প্রমাণ করে যে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো এখনো শক্তিশালী সংগঠনকাঠামো ধরে রেখেছে। শুধু সামরিক অভিযানে নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমাধান ছাড়া এই সংকট দীর্ঘ মেয়াদে মোকাবিলা করা কঠিন।”

এদিকে পাকিস্তানের অন্যান্য অংশেও ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হামলার ঝুঁকি রয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী, বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

এনএনবাংলা/