Monday, February 2nd, 2026, 6:26 pm

প্রেস উইংয়ের বিবৃতি: গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ বাড়ছে—এমন দাবি ভিত্তিহীন

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে একটি দাবিতে বলা হচ্ছে, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে। তবে সরকার এ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্টস ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণভোটকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হলে ইউনূস সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।

এই দাবির পক্ষে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফটোকার্ডটির শিরোনাম—
‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ।’

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে প্রেস উইং জানায়, বক্তব্য অনুসন্ধানে দেখা যায়—জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে।

বরং তিনি বলেছেন, ‘গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।’

তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই সংসদ স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে—সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়ন করবে। পাশাপাশি সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরাতে মৌলিক সংস্কারের জন্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

প্রেস উইং স্পষ্ট করে জানায়, অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্য অনুযায়ী এই দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নয়।

এ ছাড়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এও বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী—গণভোটে প্রশ্নের পক্ষে (‘হ্যাঁ’) ভোট বেশি পড়লে, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে।

এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম শেষ করবে। এরপর পরিষদের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যাবে।

এই সময় সংসদ সদস্যরা একদিকে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষমতাও প্রয়োগ করবেন।

প্রেস উইং জানায়, প্রচলিত কোনো আদেশ বা আইনে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হয়নি। বরং স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—সংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।

সবশেষে সরকার জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধির দাবিটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন।

এনএনবাংলা/