Monday, February 2nd, 2026, 8:48 pm

নির্বাচনী দিন যতই নিকটবর্তী হচ্ছে নাটোরে রাজনৈতিক মাঠ ততই উত্তপ্ত হচ্ছে এনসিপির কার্য্যলয়ে মামলা-ভাংচুর থানায় মামলা দায়ের

নাটোর প্রতিনিধি:

নির্বাচনী দিন যতই নিকটবর্তী হচ্ছে নাটোরের সিংড়া রাজনৈতিক মাঠ ততই উত্তপ্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দাঙ্গ-হাঙ্গামা এমন কি প্রাণহানির মত সহিংস ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যে বিএনপির ধানের শীষের পার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনু ও বিদ্রোহী পার্থী দাউদার মাহমুদের কর্মি সমর্থকদের মধ্যে একাধিক মারা-মারির ঘটনা ঘটেছে।  এছারা  নাটোরের সিংড়ায় এনসিপির পার্থী   অধ্যক্ষ এস এম জার্জিস কাদিরের নিজ এলাকায় দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গত ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১১ টার দিকে উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের মৌগ্রামে এঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এনসিপির দুই কর্মী আহত হয়েছেন।
এঘটনায় জার্জিস কাদির নিজে বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে সোমবার সিংড়া থানায় একটি মামলা দায়ের  করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা মৎস্যজীবি দলের সাবেক সভাপতি ও সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস আকন্দ, ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে প্রায় ২৫-৩০ জন ব্যক্তি এনসিপির কার্যালয়ের সামনে পিকনিক করছিল। ওই সময় কার্যালয়ে থাকা ১০-১২ জন এনসিপির সমর্থক তাদের একটু দূরে গিয়ে পিকনিক করতে অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কার্যালয় ভাঙচুর করে এবং ভেতরে থাকা এনসিপির কর্মীদের প্রায় ১ ঘন্টা অবরু করে রাখে। এ সময় সুলতান নামের এক এনসিপি কর্মীকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে রোববার ফেব্রুয়ারী সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের সুকাশ বাজারে শীষের পার্থী ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের চাচা শশুর আনেয়ার ইসলাম আনুর কর্মীদের হামলায়  স্বতন্ত্র প্রার্থীর  বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক দাউদার মাহমুদের দুই কর্মী মিজানুর ও আজিজুলের পিটিয়ে জখম করা হয়।

এছারা ২৯ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বিয়াস মাবিয়ার মোড়ে
বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর কর্মী সৈয়দ, তৈয়ব, সবুজ ও হামদুল এর নেতৃত্বে লাঠিসোঁটা নিয়ে দাউদার মাহমুদ এর সমর্থকদের উপর হামলা করা হয়।

এতে আহত অবস্থায় ৩জনকে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। আহতরা হলেন, আমিন, সালাম ও রোজিনা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিক বরাদ্দের দিন রাতেই সিংড়ায় বিএনপির কর্মী ও কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিমকে (৫৩) গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে নিহতের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ কর্মীর আব্দুল ওহাবের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ওই সময় আগুনে পুড়ে মারা যান ওহাব আলীর বৃদ্ধা মা সাদিয়া বেগম (৭৫)। এর আগে গত ৮ জানুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে আবু রায়হান (৪৫) নামের এক বিএনপি নেতাকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দুই পা কুপিয়ে  রক্তাক্ত অভিযোগ উঠে, ধানের শীষের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনুর সমর্থক যুবদল নেতা সোহানুর রহমান সোহান, রমজান, আউয়াল, মিঠু, ফরহাদ ও রহিদুলের বিরুদ্ধে।

আবু রায়হান ইটালি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও হিজলি গ্রামের অফিজ উদ্দিনের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়।
জানা যায়, সিংড়ায় বিএনপি নেতা দাউদার মাহমুদ এর চেম্বারে রাজনৈতিক আলোচনা শেষে বাড়ি ফেরার পথে এঘটনা ঘটে।
এসব বিষয়ে বিএনপির ধানের শীষের পার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনুর মোবাইলে য়োগাযাগ করা হলে তিনি নির্বাচনী প্রচারনায় ব্যস্ত থাকায় কথা  বলা যায়নি। তবে তার ফোনে উপজেলা ছাত্র দলের  যুগ্ন আহবায়ক কাজল সরকার বলেন, সিংড়ায় এনসিপির কোন কার্য্যক্রম বা প্রতিদ্বন্দিতা করার জন সমর্থন নাই। এ গুলো করে অপপ্রচার করা হচ্ছে। অন্য দিকে দাউদার মাদমুদের লোকজনই তাদের নির্বাচনি অফিসের সামনে শ্লোগান দেওয়া নিয়ে মারামারি হয়েছে।

সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুন নূর বলেন, প্রতিটা  ঘটনার আলাদা আলাদা মামলা হয়েছে । খুনের ঘটনায় একজন আটক হলেও অন্য মামলা গুলোতে কোন আটক নাই। তবে পুলিশি অভিযান চলমান এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
এব্যাপারে পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ভয়-ভিতি এবং মারপিট করে ভোট হয় না ভোটারদের মন জয় করেই ভোট হয়। এই ব্যাপারটা কেন যে পার্থীরা বুঝতে চ্য়া না? আমরা এবিষয় গুলোকে গুরুত্বসহকারে দেখছি। এর বাইরে আইনশৃংখলা বজায় রাখতে ঔসব এলাকায় অতির্কি ফোর্স দেয়া হয়েছে। তারা মাঠে কাজ করছে।