Wednesday, February 4th, 2026, 9:45 pm

কুড়িগ্রামে  ইরি-বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক-কৃষাণীরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে বিভিন্ন জায়গায় ইরি-বোরো ধান চাষাবাদ পুরোদমে শুরু হয়েছে। তাই চাষাবাদের জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ইরি-বোরো ধানের চারা লাগানোর জন্য ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ করে জমি উবর্বর করে নিচ্ছেন। আবার কোথাও কোথাও মহিষ, গরু ও ঘোড়ার হাল দিয়ে আবার কেউ কেউ নিজেই মইয়ে গাছের গুড়ি ফেলে দিয়ে মই টেনে কদমাক্ত জমি সমান করে চারা রোপনের জন্য প্রস্তুত করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। সব মিলে এ মৌসুমে কোন কৃষক-কৃষাণী ঘরে বসে থাকেন না। মাঠেই ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়,চলতি বছর এ জেলায় ১লাখ ১৭হাজার ৩৬৫হেক্টর  জমিতে  ইরি বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
 জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে কৃষকরা। অনেক জায়গায় বিভিন্ন জাতের ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণও করছে। এ মাসের শেষের দিকে এ চাষাবাদ পুরোদমে শুরু হয়েছে বলে জানায় চাকির পশার তালুক গ্রামের কৃষক সোলায়মান আলী, পাঠক গ্রামের জাকির হোসেন, মানিক মিয়া, রতিরাম কমলও ঝাঁ গ্রামের স্বর্ণকমল মিশ্র, অজর্ূণ মিশ্র গ্রামের দুলাল কার্জ্জী।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, ইরি বোরো চাষাবাদে জমি প্রস্তুতে ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ শুরু হয়েছে। আবার অনেক জমিতে ইরি -বোরো চারা রোপন করতে সেচের পানি দিয়ে হাল চাষ করে জমি সমান করতে মহিষ, গরু ও ঘোড়া দিয়ে মই টানা হচ্ছে। আবার অনেক স্থানে চারা লাগানো শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জমি থেকে সরিষা উত্তোলনের পরও ইরি বোরো ধানের চারা লাগানো হবে।
কয়েকদিন আগে প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় ইরি-বোরো বীজতলা কিছুটা বিনষ্ট হয়েছে। তবে এখনও হাট-বাজারগুলোতে ধানের চারা ওঠেনি এবং বিভিন্ন জাতের ধানের চারা কিছুটা সঙ্কট ও মূল্য বৃদ্ধি হতে পারে বলে কৃষকরা আশংকা করছে। তারা আরও বলেন কৃষি শ্রমিক, জমিতে হাল চাষ, সার ও পানি সেচসহ খরচের হারও বাড়তে শুরু করছে। এবার খরচ বেশি হলেও চাষাবাদে কমতি করছে না কৃষকরা। তাই তারা  চাষাবাদে ঝুঁকে পড়ছে।এবার সারের দাম চড়া।অনেক কষ্ট করে বোরো আবাদ শুরু করেছি।ধানের দাম ভালো পেলে আমরা খুব খুশি হব।
এ বিষয়ে সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিবছরের ন্যায়  জেলার বিভিন্ন স্থানে ইরি বোরো চাষাবাদে জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা লাগানো শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই শতকরা ৬০ভাগ বোরো আবাদ করতে সক্ষম হয়েছেন কৃষকরা।জমিতে বিভিন্ন জাতের ধানের চারা লাগানো হয়েছে। আশা করা যায়, আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহেই চারা রোপনের কাজ শেষ হবে। অধিক ফলনের জন্য  সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছে।