নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। লাগাতার কর্মবিরতি ও জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মহাবিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
এই সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেশের শীর্ষ ১০ বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন, বিসিআই, এমসিসিআই, ডিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিটিটিএলএমইএ, বিজিএপিএমইএ এবং বিজিবিএ’র সভাপতিরা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাহাজ চলাচল পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
তাদের ভাষ্য, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর অচল হয়ে পড়া জাতীয় অর্থনীতির জন্য বিরল ও গুরুতর সংকট। বন্দর একদিন বন্ধ থাকা মানেই অর্থনীতিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতি।
রপ্তানি শিপমেন্ট ঝুঁকিতে, ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কা
ব্যবসায়ী নেতারা জানান,
- রপ্তানি খাতের কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে পারছে না
- উৎপাদিত পণ্য বন্দরে শিপমেন্টের অপেক্ষায় পড়ে আছে
- আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দেওয়া ডেডলাইন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে
তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি কয়েকদিন স্থায়ী হলে বড় ধরনের ক্রয়াদেশ বাতিল হতে পারে। বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং সরিয়ে নেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারেন।
বাড়ছে ডেমারেজ ও পোর্ট চার্জ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি
বর্তমানে বিশ্ববাজারে চাহিদা হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শিল্পখাত চাপে রয়েছে। এর মধ্যেই বন্দর অচলাবস্থার ফলে ভয়াবহ কনটেইনার জট সৃষ্টি হয়েছে।
ডেমারেজ চার্জ, পোর্ট চার্জ ও স্টোরেজ রেন্ট বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সরাসরি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে রপ্তানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রমজানকে ঘিরে নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা
অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব পড়বে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যে। সামনে পবিত্র রমজান মাস।
সংকট দ্রুত নিরসন না হলে আমদানিকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজারে পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। এতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়ে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যাংক ঋণ ও এলসি ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি
শিপমেন্ট সময়মতো না হলে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ ও এলসি দায় পরিশোধে সমস্যায় পড়বেন। এতে আর্থিক খাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন- বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ), মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার, বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ ও বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি (বিটিটিএলএমইএ) এম শাহাদাত হোসেন।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারি, দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর: প্রেস সচিব
দেশ এবং জাতি সশস্ত্র বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে: নৌবাহিনী প্রধান
ভ্যালেন্টাইনে জোভান-নীহার ‘যে কথা হয়নি বলা’