দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারাবন্দিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন—যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক অনন্য নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত চলেছে। এই সময়ের মধ্যে নিবন্ধিত ৫ হাজার ৯৯০ জন বন্দির মধ্যে ৪ হাজার ৬৭ জন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
একই সঙ্গে তারা দেশের চলমান সংস্কার বিষয়ক গণভোটেও অংশগ্রহণ করছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার এই ভোটগ্রহণের শেষ দিন এবং এদিন অবশিষ্ট ১ হাজার ৯২৩ জন নিবন্ধিত বন্দিও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট প্রদান না করলে তাদের ভোটাধিকার বাতিল হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এই ঐতিহাসিক ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন কারাগারে বন্দি থাকা একাধিক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধশত ভিআইপি বন্দি। বিশেষ করে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা ৩৯ জন হাই-প্রোফাইল বন্দি ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু এবং জুনাইদ আহমেদ পলক।
নিবন্ধিত ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে ২২ জন রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন সাবেক সচিব এবং পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। ভোট কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে ঢাকা বিভাগকে দুটি সাংগঠনিক ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগ-১-এর আওতায় ১ হাজার ৪৭৬ জন এবং ঢাকা বিভাগ-২-এর আওতায় ১ হাজার ১৮৩ জন বন্দি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।
ভোট প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ জানিয়েছেন, প্রত্যেক নিবন্ধিত বন্দিকে একটি প্যাকেট সরবরাহ করা হচ্ছে, যেখানে তিনটি খাম থাকে। এতে ব্যালট পেপারের পাশাপাশি গণভোটের জন্য ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ চিহ্নিত পৃথক ব্যালট পেপারও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
বন্দিরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট প্রদান করে খামগুলো সিলগালা করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন। পরে কারা কর্তৃপক্ষ ডাক বিভাগের এক্সপ্রেস সার্ভিসের মাধ্যমে সেগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেয়। নির্বাচন কমিশন সাধারণ ভোটের সঙ্গে এসব পোস্টাল ব্যালট যুক্ত করে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন, ৪ ফেব্রুয়ারি ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন এবং শুক্রবার ৪২০ জন বন্দি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন সপ্তাহব্যাপী অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।
সে সময় দেশের ৭৫টি কারাগারে মোট ৮৬ হাজার বন্দি থাকলেও তাদের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৯৯০ জন ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের কারণে ৩৮০টি আবেদন বাতিল হয় এবং বাকিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে ব্যর্থ হন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
বিএনপির কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে এবার আপিল বিভাগে নাহিদ
এটা শুধু ক্রিকেটারদের নয়, পুরো জাতির জন্য অপমানজনক : জামায়াত আমির
জনগণ চাইলে শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে ফিরতে পারেন: তারেক রহমান