জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ উপজেলা কুলাউড়াকে নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-২ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের জন্মমাটি এই এলাকায়। এ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলী। ভোটের মাঠে তিনি দিন-রাত নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তাঁর সাথে থেকে গ্রামে-গঞ্জেসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা, উঠোন-বৈঠকে সরব রয়েছেন। লক্ষ্য একটাই বিজয়ী হয়ে আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমানকে এই আসনটি উপহার দেওয়া। যাতে করে ২০০১ সালে ডাঃ শফিকুর রহমান এই আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে ভালো ফল বয়ে আনতে না পারার ক্ষতটাও ঘুচিয়ে নেওয়া। এবারের নির্বাচন একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। জামায়াতের পাশাপাশি ইসলামী শিবির ও ছাত্রী সংস্থার নেতাকর্মীরাও মূল সংগঠনের সাথে কঠোর শ্রম দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল মুনতাজিম, নায়েবে আমীর জাকির হোসেন, সেক্রেটারি জেনারেল প্রভাষক বেলাল আহমদ চৌধুরী, সহ সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে কুলাউড়ার ১৩ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় মানুষের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। ৫৪ বছরে মানুষের প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির ফারাক অনেক। দলমত নির্বিশেষে কুলাউড়াবাসী আজ ঐক্যবদ্ধ। তারা দাঁড়িপাল্লাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।
১১ দলীয় জোটের এমপি প্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলী বলেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আল্লাহ’র হুকুমে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা দীর্ঘ ৫৪ বছরের বঞ্চিত এই কুলাউড়া উপজেলাকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাবো। ৫৪ বছরে ১২টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন মন্ত্রীর দেখা পাইনি। অতীতে কুলাউড়ার জনগণ ১২ জন সংসদ সদস্যকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেও কেউই প্রত্যাশিত কোন উন্নয়ন করেননি। কুলাউড়ার জনগণ আমাকে যদি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তাহলে আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে একটি সাম্য, সম্প্রীতি আর ঐক্যের কুলাউড়া গড়ে তুলবো।
তিনি বলেন, কুলাউড়াবাসীর জন্য সুসংবাদ। আমরা আশা করছি, এই নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারলে কুলাউড়ার কৃতি সন্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। আমরা মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীর স্বাদ পাবো উন্নয়ন বঞ্চিত কুলাউড়ার দীর্ঘ ৫৪ বছরের জমে থাকা কাজের জন্য। কুলাউড়াবাসী আজকে যেভাবে উৎফুল্ল, ঐক্যবদ্ধ আগামী নির্বাচনে ব্যাট এবং বলের সাক্ষাৎ মিলবে। অর্থ্যাৎ সরকার দলের এমপি নির্বাচিত করবে। কুলাউড়াবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে ১১ দলের জোটের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করবে এবং এই বিজয় আমীরে জামায়াত কুলাউড়ার কৃতী সন্তান ডাঃ শফিকুর রহমানকে উপহার দিতে চাই। তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য চাঁদাবাজ, ভূমিখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুলাউড়ায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক অন্যের ভূমি দখল সহ্য করা হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি নিরাপদ কুলাউড়া গড়ে তোলা হবে। পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে হাকালুকি হাওরকে হাওরকে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে উন্নয়নবঞ্চিত কুলাউড়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কুলাউড়ার চার লাইন বিশিষ্ট সড়কসহ পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা হবে। চা শিল্প ও চা শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়নে চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ আবাসন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। শ্রমিক পরিবারগুলোর জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা শিশুদের শিক্ষায় বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। নারী শ্রমিকদের জন্য মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও পুষ্টি সহায়তা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা হবে। চা-শ্রমিকদের সম্মান, অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। বর্তমানে প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা এনআইডি কার্ড, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন তৈরি বা সংশোধনের সময়। আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি-তাহলে প্রবাসীদের জন্য আলাদা প্রবাসী হেল্প ডেস্ক গঠন করবো, যাতে পাসপোর্ট ও এনআইডি জটিলতা সহজ ও হয়রানিমুক্তভাবে সমাধান হয়।
বেকারত্ব নিরসনের লক্ষে নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। কুলাউড়া একটি অপার সম্ভাবনাময় উপজেলা। এখানকার তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক ও চাহিদাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলে এবং পর্যটন খাতকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। পাশাপাশি সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করা হবে। এর ফলে কুলাউড়ায় বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং অর্থনৈতিকভাবে একটি স্বনির্ভর উপজেলা গড়ে উঠবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কুলাউড়া প্রাকৃতিকভাবে একটি সমৃদ্ধ উপজেলা। এই পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে একটি সবুজ ও স্বাস্থ্যকর কুলাউড়া গড়ে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলী ১৯৯০ সালে ছাত্র শিবিরে যোগদানের মধ্যে দিয়ে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ৯৩ সালে সিলেট পলিটেকনিকের ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ছাত্র শিবিরের সিলেট মহানগর সভাপতি, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ দেড় দশক মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সর্বশেষ ৩ বছর থেকে জেলা জামায়াতের আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ ২৪ বছর পর মৌলভীবাজার-২ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আর প্রার্থী এম সায়েদ আলীকে ঘিরে উজ্জীবিত ও ভোটের মাঠে সরব নেতাকর্মী এবং সমর্থকেরা

আরও পড়ুন
সখীপুরে উপসচিবের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
কুলাউড়ায় জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জয়পুরহাট র্যাব ক্যাম্পের মহড়া অনুষ্ঠিত