নড়াইল প্রতিনিধি ঃ
আওয়ামী লীগ বিহীন ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচনী মাঠে বিরাজমান ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সংঙ্গত কারনে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও নড়াইলের দুটি আসনে প্রকট অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর চাপে বিএনপির এবারের সুযোগকে কাজে লাগাতে পারা নিয়েও ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন পর্যক্ষেকেরা। অপরদিকে, বিজয় ছিনিয়ে আনতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামী অগ্রসর হচ্ছে সুপরিকল্পীতভাবে।
এবারের পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে ভোটের মাঠে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের শরিক এনপিপি’র কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. এ জেড এম ফরিদউজ্জমান ফরহাদকে বিএনপি (ধানের শীষ) মনোনয়ন দিয়েছে। এর আগে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলামকে দেওয়া মনোনয়ন বাতিল করায় মনিরুল ইসলাম দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে কলস মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সে কারনে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন করায় স্থানীয় কয়েকজন শীর্ষ নেতাসহ বিদ্রোহী প্রার্থ মনিরুল ইসলামকে বহিস্কার করা হয়েছে। এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চু (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ (লাঙ্গল), গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী লায়ন নূর ইসলাম (ট্রাক), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী শোয়েব আলী (ছড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিন (জাহাজ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নড়াইল—২ (লোহাগড়া উপজেলা ও সদরের একাংশ) আসনে বিএনপি মনোনীত ফরিদউজ্জমান ফরহাদ (ধানের শীষ) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলামের কলস মার্কার সমর্থনের চাপে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। বিগত সময়ের নির্বাচনে কাস্টিং ভোটের হিসাব মতে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ভোট প্রায় সমান সমান। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের ভোট যারা টানতে পারবে, তাঁদের বিজয় সুনিশ্চিত। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ আসনে বিএনপি (ধানের শীষ), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (কলস) ও জামায়াতের প্রার্থীর (দাড়িপাল্লার) মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে, বিএনপির শক্ত বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী চমক দেখাতে পারেন বলে মনে করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বিগত ১৫ বছর জেল জুলুম নির্যাতন উপেক্ষা করে মাঠে ময়দানে থেকে দলের নেতৃত্ব দিয়েছি, কখোনো পিছু হটিনি। কিন্তু দল থেকে আমাকে মূল্যায়ন করেনি, এটা নড়াইল—২ আসনের সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারেনি। তাই, লোহাগড়া ও নড়াইল সদরের (একাংশ) বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের চাপে নির্বাচন করতে বাধ্য হয়েছি। প্রত্যন্ত এলাকায় আমাদের সভা সমাবেশ ও জনসংযোগে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি বলে দিচ্ছে নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো ইনশাল্লাহ। নির্বাচনে ফলাফল কারচুপি না হলে বিজয়ের হাসি হাসবে কলস মার্কার সমর্থকেরা।
বিএনপির প্রার্থী এনপিপি’র কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাড. ড.ফরিদউজ্জমান ফরহাদ বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে মাঠে ময়দানে থেকে হামলা মামলার শিকার হয়েছি। মামলার শিকার স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে উচ্চ আদলত থেকে তাঁদের জামিনে মুক্ত করতে সার্বিক সহায়তা করেছি। ২০১৮ নির্বাচনে জোটের মনোনয়ন পেয়ে নড়াইল—২ আসনে নির্বাচন করতে গিয়ে ব্যাপক হামলা নির্যাতনের শিকার হই। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আমার দলের কঠোর অবস্থানসহ সার্বিক বিবেচনায় এবারও আমি নড়াইল—২ আসনে জোটের মনোনয়ন পেয়েছি। বিজয়ী হয়ে এ আসনটি তাঁরেক রহমানকে উপহার দিতে পারবো বলে আশা করি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা আমীর মো. আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, দুই আসনের সকল কেন্দ্র এলাকায় সফর সম্পন্ন করেছি, আসনের সকল ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ চুড়ান্ত করে ভোটে তাঁদের দায়িত্ব পালনে দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রাথমিক পর্বে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। আসন পর্যায় থেকে শুরু করে সকল উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ভোট কেন্দ্র পর্যন্ত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জনহিতকর কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে শহরে, গ্রামে ও পাড়া মহল্লায়। এমন বাস্তবতায় নিজেদের প্রস্তুতি আর ভোটারদের সাড়া নিয়ে সন্তুষ্ট জেলা আমীর সামগ্রিক বিবেচনায় এবারের ভোটে কাঙ্খিত ফলাফলের ব্যাপারে ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
নড়াইল সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এবং লোহাগড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নড়াইল—২ আসন। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ৭৯৩। এরমধ্যে ১ লাখ ৯৪ হাজার ১৪৪ জন পুরুষ, ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৪৫জন নারী এবং ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

আরও পড়ুন
কুলাউড়ায় জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জয়পুরহাট র্যাব ক্যাম্পের মহড়া অনুষ্ঠিত
শেখ বেলাল উদ্দীন সাংবাদিকতাকে মিশন হিসেবে নিয়েছিলেন : মিয়া গোলাম পরওয়ার