আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও নির্বাচনি আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহাদী আমিন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা বলে যে দলটি রাজনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছে, তারাই এখন নির্বাচনের মাঠে মানুষকে এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছে। এটি নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন এবং অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, স্বয়ং ওই দলীয় প্রধানের নির্বাচনি আসন ঢাকা-১৫ তে প্রকাশ্যে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করা হয়েছে, যার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, দলটি দেশব্যাপী একই ধরনের অপকৌশল অবলম্বন করছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যারা সততা ও নৈতিকতার কথা বলে রাজনীতি করেন, তারাই যদি ভোটের মাঠে অর্থ ছড়িয়ে জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন, তবে এর চেয়ে বড় দ্বিচারিতা আর হতে পারে না। এটি তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের সুস্পষ্ট প্রমাণ।
মাহাদী আমিন নির্বাচনি আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি-৪ উল্লেখ করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে ভোটারদের অর্থ, উপহার বা অনুদান দিতে বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন না। একই বিধিমালার বিধি-২৭ অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। The Representation of the People Order, 1972-এর Article 91B (3) অনুসারে এ ধরনের অপরাধে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল এই বিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
তিনি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
মাহাদী আমিন আরও অভিযোগ করেন, খুলনা-১ আসনে ওই দলের প্রার্থী নিজ হাতে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করেছেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা-১১ আসনের চৌদ্দগ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং বগুড়া-৪ আসনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। এসব ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিএনপির এই নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার পুরো সময়জুড়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, বিভিন্ন জরিপ এবং জনসভাগুলোতে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট হয়েছে—জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি শীর্ষে রয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত।
তিনি অভিযোগ করেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনে একটি দল এখন অপপ্রচার, সহিংসতার হুমকি, ধর্মের অপব্যবহার এবং জাল ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে জনগণের শক্তির সামনে এসব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহাদী আমিন।
শেষে তিনি বলেন, যত অপপ্রচার, অর্থনৈতিক প্রলোভন কিংবা সহিংসতার চেষ্টা করা হোক না কেন—গণতন্ত্রকামী জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
পদত্যাগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান
নেত্রকোণায় রাতের আঁধারে ৪ ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা
নির্বাচনে ফলাফল যা-ই হোক মেনে নেবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল