বড় কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই শেষ হয়েছে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এখন সারাদেশে চলছে ভোট গণনার কার্যক্রম।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির ভেতরে উপস্থিত ছিলেন, তাদের ভোটও গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো আশঙ্কার কারণ নেই। ভোটকেন্দ্রের বাইরে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
এ নির্বাচনে ৬০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নেয়। ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত ভোটে মোট প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৩ জন—এর মধ্যে ৬৩ জন দলীয় এবং ২০ জন স্বতন্ত্র। পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন; এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় এবং ২৫৩ জন স্বতন্ত্র।
শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণা করে সেখানে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
দলভিত্তিক প্রার্থীসংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি, যাদের প্রার্থী ২৯০ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ২৫৭ জন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৭ জন, জাতীয় পার্টির (জাপা) ২০০ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯৪ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
ভোটের আগের সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিন সব দল ও প্রার্থীদের ফলাফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০, পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। শেরপুর-৩ আসনের ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৭ জন ভোটার এবার ভোট দিতে পারেননি। ফলে আজ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন মোট ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন ভোটার।
এনএনবাংলা/পিএইচ

আরও পড়ুন
বিএনপির বিজয় অনিবার্য, চূড়ান্ত ফল না পাওয়া পর্যন্ত সজাগ থাকার আহ্বান: মাহদী আমিন
হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সমর্থন পাওয়া গণঅধিকারের জসিমের ভোট বর্জন
তিন আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত চাইল জামায়াত