February 13, 2026
Friday, February 13th, 2026, 1:16 pm

বিএনপির ৭ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ না পেয়ে তারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এখন দলীয় ও জোট প্রার্থীদের পাশাপাশি তারাও সংসদে যাচ্ছেন—যা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে।

বিজয়ী ৭ স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী

বেসরকারি ফল অনুযায়ী বিজয়ী স্বতন্ত্ররা হলেন—

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
  • কিশোরগঞ্জ-৫: শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল
  • টাঙ্গাইল-৩: লুৎফর রহমান খান আজাদ
  • চাঁদপুর-৪: আব্দুল হান্নান
  • কুমিল্লা-৭: আতিকুল আলম শাওন
  • ময়মনসিংহ-১: সালমান ওমর রুবেল
  • দিনাজপুর-৫: রেজওয়ানুল হক

মনোনয়ন বঞ্চনা থেকে বিদ্রোহ, তৃণমূলে ভোট বিভক্তি

দলীয় নানা উদ্যোগের পরও ‘ধানের শীষ’ না পেয়ে সারা দেশের অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির ‘অভিমানী’ নেতারা স্বতন্ত্র তথা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন। বিশেষ করে শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া ১৬ আসনের ১২টিতেই বিদ্রোহী প্রার্থিতা ছিল। ফলে তৃণমূলের ভোট কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে। অনেক আসনে বিএনপি-সমর্থিত জোট প্রার্থীরা পরাজিত হন—যা নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলে।

আসনভিত্তিক প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: আসনটি জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। ধানের শীষ না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত হন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী): প্রাথমিক মনোনয়ন পেলেও চূড়ান্তভাবে ধানের শীষ পান ১২ দলীয় জোটভুক্ত বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। পরে স্বতন্ত্র হলে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বহিষ্কৃত হন।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল): কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসিরকে প্রার্থী করে বিএনপি। ধানের শীষ না পেয়ে সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ বিদ্রোহী প্রার্থী হন।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ): সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশীদকে প্রার্থী করা হয়। ধানের শীষ না পেয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান স্বতন্ত্র হন ও বহিষ্কৃত হন।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা): এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ধানের শীষ পান। মনোনয়ন না পেয়ে আতিকুল আলম শাওন স্বতন্ত্র হয়ে বহিষ্কৃত হন।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া): যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ধানের শীষ পান। স্বতন্ত্র হলে সালমান ওমর রুবেল বহিষ্কৃত হন।

দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী): ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামানকে প্রার্থী করা হয়। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় রেজওয়ানুল হক বহিষ্কৃত হন।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

দলীয় প্রতীক ছাড়াই সাত প্রার্থীর জয় বিএনপির তৃণমূল শক্তির এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে জোট রাজনীতি ও আসন সমঝোতা কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংসদে তাদের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ দলীয় সিদ্ধান্ত এখন রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

এনএনবাংলা/