February 13, 2026
Friday, February 13th, 2026, 3:52 pm

হারলেও ‘সততার রাজনীতি’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা তাসনিম জারার

 

ঢাকা–৯ আসনে পরাজিত হলেও ‘সততা ও সম্মানের রাজনীতি’ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। শুক্রবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, জয়ের লক্ষ্য ছুঁতে না পারলেও অনেকের কাছে অসম্ভব মনে হওয়া একটি রাজনৈতিক প্রচারণা তাঁরা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

তিনি জানান, স্বল্প সময়ের প্রচারণায় তিনি ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল এমন একটি প্রচারাভিযান যেখানে উচ্চস্বরে মাইকিং, পেশিশক্তির প্রদর্শন কিংবা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের আশ্রয় নেওয়া হয়নি। বরং তিনি এটিকে ‘সম্মান ও সততার একটি মডেল’ হিসেবে অভিহিত করেন।

জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–কে অভিনন্দন জানান তাসনিম জারা। একই সঙ্গে ঢাকা–৯ আসনের বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিব–কে শুভেচ্ছা জানানোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, গত রাতেই ফোন করে হাবিবুর রশীদ হাবিবকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন।

পোস্টে তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণে গৃহীত যেকোনো উদ্যোগে তিনি গঠনমূলক ভূমিকা রাখবেন। তবে জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘সতর্ক ও নীতিনিষ্ঠ বিরোধী কণ্ঠ’ হিসেবে অবস্থান নেবেন।

নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, এবারের প্রচারণায় নারীদের উপস্থিতি ছিল নজিরবিহীন। তাঁর মতে, নীতিনির্ধারণী আলোচনায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আলোচনার ধরনই বদলে দেয়। এই নির্বাচনকে তিনি দেশের প্রতিটি নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের সংগ্রামের অংশ হিসেবে দেখেন। কিশোরীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘ক্ষমতার করিডরে তোমাদেরও জায়গা আছে।’

স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁরা নাগরিক দায়বদ্ধতার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। হতাশ না হয়ে সংগঠিত ও সোচ্চার থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

নির্বাচন শেষে যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটি সরাসরি নাকচ করেছেন তাসনিম জারা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর শিকড় ও কাজ বাংলাদেশেই—তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। একটি নির্বাচনের জন্য নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়েই তাঁর এই উদ্যোগ।

নির্বাচনী অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, পরিচ্ছন্ন প্রচারণার পাশাপাশি শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা জরুরি। ভোটের দিন পোলিং এজেন্টদের সাহস ও কেন্দ্রে উপস্থিতিকেই তিনি ভোট সুরক্ষার প্রধান ঢাল হিসেবে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে ভয়ভীতি মোকাবিলায় আরও সুসংগঠিত প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

পোস্টে জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই আন্দোলনের আত্মত্যাগ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি সম্ভব হতো না। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর দল এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। জটিল প্রেক্ষাপটে একটি বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনকে তিনি গণতান্ত্রিক জাতি হিসেবে টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।

পোস্টের শেষে ৪৪ হাজার ভোটকে ‘দৃঢ় ভিত্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাসনিম জারা লেখেন, সততার রাজনীতির প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষা যে আছে, তা তাঁরা প্রমাণ করেছেন। পুরোনো রাজনৈতিক ছাঁচ ভেঙে নতুন ধারার সূচনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ঢাকা–৯ এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তাঁর বক্তব্য, ‘সেরা সময় এখনো সামনে।’

এনএনবাংলা/পিএইচ