February 14, 2026
Saturday, February 14th, 2026, 12:39 pm

নতুন সরকার গঠন সোম বা মঙ্গলবার, শপথ পড়াতে পারেন সিইসি

 

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। সে ক্ষেত্রে আগামী সোমবার অথবা মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। একই দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। নির্ধারিত এই সময়সীমা শেষে সিইসির মাধ্যমেই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর দায়িত্ব বিদায়ী স্পিকারের। বর্তমানে এ দায়িত্বে রয়েছেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তবে পদত্যাগের পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে না আসায় বিষয়টি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। নিয়ম অনুসারে, তিন দিনের মধ্যে স্পিকার শপথ না পড়ালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

অন্যদিকে, বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় কারাগারে থাকায় বিকল্প সাংবিধানিক ব্যবস্থাও জটিল হয়ে উঠেছে। স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কেউ দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকলে স্পিকারের মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েও অনীহা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আইন বিশ্লেষকদের মতে, শপথ অনুষ্ঠান কেবল একটি প্রক্রিয়াগত সাংবিধানিক বিষয় নয়; এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ ভেঙে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এবারের নির্বাচন সেই কাঠামোর বাইরে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় যেভাবে নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে শপথ ইস্যুটিরও সমাধান সম্ভব। দলগুলোর মধ্যে বিকল্প কোনো প্রস্তাবে সমঝোতা তৈরি হলে তিন দিনের অপেক্ষা ছাড়াই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের পথ সুগম হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর সরকার পতন এবং ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে যাওয়ার প্রায় দেড় বছর পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং ২৯৭টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে দুটি আসনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। তাদের মিত্ররা পেয়েছে আরও তিনটি আসন। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে এবং দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন।

এনএনবাংলা/পিএইচ