February 15, 2026
Sunday, February 15th, 2026, 3:55 pm

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ: বিএনপি সরকারের হাত ধরে কি নতুন ভূ-রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা?

ছবি: এএফপি

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রায় ১৭ বছর পর সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠনের পথে দলটি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই পরিবর্তন আনবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও মিত্ররা পেয়েছে ২১২টি, জামায়াতপন্থী জোট ৭৭, স্বতন্ত্র ৭ এবং অন্যান্যরা ১টি আসন। ফল ঘোষণার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানান।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক: পুনর্গঠন নাকি পুনর্বিন্যাস?

নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ অংশীদার ছিল। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তার ক্ষমতাচ্যুতি এবং ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। তিস্তা পানিবণ্টন, সীমান্তে গুলি, বাণিজ্য ঘাটতি ও প্রত্যর্পণ ইস্যু এখনো অমীমাংসিত।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে ‘ভারসাম্যপূর্ণ ও লেনদেনমূলক’ কাঠামোয়—পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দিয়ে। তবে দেশের তরুণ প্রজন্মের একাংশের ভারতবিরোধী মনোভাব নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

পাকিস্তান ফ্যাক্টর: নতুন সুযোগ?

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরুসহ ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএনপি আমলে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হতে পারে। পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা—বিশেষ করে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির আলোচনা—আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভারত বাংলাদেশের প্রধান প্রতিবেশী হিসেবেই থাকবে।

চীন: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী আমলে প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদান নিশ্চিত হয়। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় অবকাঠামো ও সামরিক সহযোগিতা ইতিমধ্যে গভীর হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকার চীনের বিনিয়োগ বজায় রেখে একই সঙ্গে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করবে। অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপত্তা ইস্যুতে অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়ানোই হতে পারে ঢাকার কৌশল।

‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতি ও কূটনৈতিক ভারসাম্য

বিএনপির ইশতেহারে ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে—জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার অঙ্গীকার।

বিশ্লেষকদের মতে, হঠাৎ নাটকীয় পরিবর্তনের বদলে ধীরে ধীরে বাস্তববাদী কূটনীতি গড়ে তুলতে পারে নতুন সরকার। ভারত, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যকার প্রতিযোগিতায় সরাসরি পক্ষ না নিয়ে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখাই হবে ঢাকার সূক্ষ্ম চ্যালেঞ্জ।

এনএনবাংলা/