আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ীদের প্রভাব আরও বেড়েছে। নির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৭৪ জন বা ৫৯ শতাংশ নিজেদের মূল পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে নীতি ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব বেড়ে যেতে পারে।
টিআইবি’র সতর্কতা
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সংসদে ব্যবসায়ীদের প্রভাব বাড়লে ব্যবসা ও রাজনীতি একাকার হয়ে যায়। সরকারি ক্রয় খাত রাজনৈতিক প্রভাবের আওতায় চলে আসে এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
নির্বাচনী ফলাফলের বিশ্লেষণ
- মোট ২৯৭ আসনের মধ্যে ১৭৪ জন ব্যবসায়ী।
- বিএনপি: ২০৯ জনের মধ্যে ১৪৫ জন ব্যবসায়ী (৬৯%)।
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ৬৮ জনের মধ্যে ২০ জন ব্যবসায়ী (২৯%)।
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনিসিপি): ৬ জনের মধ্যে ২ জন ব্যবসায়ী।
স্বতন্ত্র জয়ী ৭ জনের মধ্যে ৫ জন ব্যবসায়ী, যাদের বেশিরভাগ পূর্বে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ঐতিহাসিকভাবে, স্বাধীনতার পর প্রথম সংসদে ব্যবসায়ীর অংশগ্রহণ ছিল ১৮ শতাংশ, যা ১৯৯১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ শতাংশে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদে এই হার ছিল ৬৭ শতাংশ, যা ত্রয়োদশ নির্বাচনে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্ভাব্য প্রভাব
ইফতেখারুজ্জামান আশঙ্কা করছেন, “সংসদে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বাড়লে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে অনিয়মের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের প্রবণতাও বৃদ্ধি পেতে পারে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “নতুন সরকার কীভাবে এই বাস্তবতায় ভারসাম্য রক্ষা করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।”
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়: ধানের শীষে ৫০% ভোট পড়েছে, ৩২% দাঁড়িপাল্লায়
ফলাফল পুনর্বিবেচনার দাবি ‘অপ্রাসঙ্গিক’, আদালতের নির্দেশ পেলে পুনর্গণনা: ইসি আনোয়ারুল
পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা