February 18, 2026
Wednesday, February 18th, 2026, 3:13 pm

দেশের অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও ভঙ্গুরতা এখনো কাটেনি: গভর্নর

 

বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রসর হলেও ভেতরে এখনো উল্লেখযোগ্য ভঙ্গুরতা রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ড. আহসান এইচ মনসুর। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

গভর্নর বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক খাতে যে নজিরবিহীন অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে, তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এই খাতকে সম্পূর্ণভাবে সংস্কার করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে নবগঠিত সরকারের প্রতি দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে কার্যকর ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চালালেও এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা স্থিতিশীল রাখতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন।

গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু করা সংস্কার কার্যক্রম নতুন নির্বাচিত সরকার পূর্ণ গতিতে এগিয়ে নেবে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থ ও জনকল্যাণের কথা বিবেচনায় রেখে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন সরকার প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে তিনি ইতিবাচক বার্তা দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই দেশের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করবে। শুধু তাই নয়, বছরের শেষ নাগাদ রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি পূর্বাভাস দেন। এতে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ব্যাংক খাতের সংস্কার ও খেলাপি ঋণ আদায়কে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেও দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও রিজার্ভ বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

সঠিক নীতিনির্ধারণ ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

এনএনবাংলা/পিএইচ