পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর, প্রোটিনের উৎস ব্রয়লার মুরগি ও কয়েকটি সবজির দাম কয়েক দফা বেড়েছে। বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ভোক্তা-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নতুন সরকারের প্রথম দিন থেকেই বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হুঁশিয়ারি থাকলেও ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। শুল্কছাড়ের সুবিধা নিয়ে খেজুর আমদানি করে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যদিকে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো রমজানকে সামনে রেখে ব্রয়লার মুরগির বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত তদারকি জোরদার না হলে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এ অবস্থায় রমজানে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও ভোক্তা অধিকার সংগঠন।
খেজুরে আমদানি খরচের তুলনায় কয়েক গুণ দাম
রমজানে প্রতিদিনের ইফতারে খেজুর অপরিহার্য। কিন্তু আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা—তিন পর্যায়ের মূল্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আমদানি মূল্যের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে ভোক্তাকে খেজুর কিনতে হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটিসহ মোট শুল্ক প্রায় ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ। তথ্যমতে—
- মেডজুল, আজওয়া ও আম্বার জাতের খেজুরের আমদানি খরচ (শুল্কসহ) প্রতি কেজি ৬৪৩–৬৫০ টাকা
- মরিয়ম খেজুরের আমদানি খরচ প্রায় ৬০০ টাকা
- সাধারণ মানের খেজুরের আমদানি খরচ কেজিতে ৪০০ টাকার কিছু বেশি
তবে বাজারে এসব খেজুর আমদানি খরচের দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর বাদামতলীতে পাইকারিতে মেডজুল খেজুরের কেজি দেড় হাজার টাকা। খুচরা বাজারে তা ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আজওয়া পাইকারিতে ৭০০ টাকা হলেও খুচরায় ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মরিয়ম খেজুর পাইকারিতে প্রায় ৯০০ টাকা হলেও খুচরায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। সাধারণ মানের খেজুরের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজারের খেজুর ব্যবসায়ী আলি ইব্রাহীম বলেন, নির্বাচনের পরদিন থেকেই বাদামতলীর পাইকারি বাজারে ভালো মানের খেজুরের কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
তরমুজে স্বস্তির ইঙ্গিত
বাজারে তরমুজ উঠতে শুরু করেছে। প্রতি কেজি তরমুজ ৬০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বরিশালের তরমুজ পুরোপুরি বাজারে এলে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কিছুটা কমতে পারে।
ব্রয়লারের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি
গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ভরসা ব্রয়লার মুরগি। কিন্তু গত ৪৮ ঘণ্টায় রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ব্রয়লারের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। তিন দিন আগে ১৯০–২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার এখন ২০০–২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সোনালি মুরগির দাম বেড়ে কেজিতে ৩৩০–৩৫০ টাকায় উঠেছে। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার ছিল ১৬০–১৭০ টাকা এবং সোনালি জাতের মুরগি ২৭০–২৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ছোলা ও সবজিতেও বাড়তি চাপ
গত সপ্তাহের তুলনায় ছোলার দাম কেজিতে ৫–১০ টাকা বেড়ে এখন ৯০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। লম্বা বেগুন ১৩০–১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০–৯০ টাকা। নিম্নমানের বেগুন ৮০–১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে লেবুর দাম এখনও আকাশচুম্বী। মাঝারি আকারের প্রতি হালি লেবু কিনতে খরচ হচ্ছে ১০০–১১০ টাকা।
রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের এমন ঊর্ধ্বগতিতে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড: পরিবেশমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন, সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আহ্বান
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী