February 19, 2026
Thursday, February 19th, 2026, 4:27 pm

ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড: পরিবেশমন্ত্রী

 

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে রমজান মাসেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে নতুন সরকার। অন্তত পরীক্ষামূলক (পাইলট) ভিত্তিতে ঈদের আগেই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের আওতা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি সার্বজনীন করার লক্ষ্য রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে কঠোর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না। এ জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা ধাপে ধাপে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে এ সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করবে।

আজকের বৈঠকে কার্ডের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার পদ্ধতি বা মেকানিজম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারের লক্ষ্য—এই কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

এদিকে বামপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছিল, আগামী অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হলে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, কার্ড চালু নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই; সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া এবং পণ্য সরবরাহের কাঠামো নির্ধারণে কারিগরি কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তীতে দেশব্যাপী কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

রমজানের শুরুতেই পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকার মনে করছে, ফ্যামিলি কার্ড বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এ লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সরকার আশা করছে, ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্পের আওতাভুক্ত পরিবারগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত কার্ড হাতে পাবে এবং সুলভ মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

এনএনবাংলা/পিএইচ