February 19, 2026
Thursday, February 19th, 2026, 7:15 pm

মন্ত্রিসভার খেলাপি সদস্যরা কবে ঋণ শোধ করবেন, প্রশ্ন নাহিদ ইসলামের

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি জানতে চান, প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভা ও দলে থাকা যেসব সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে অভিযুক্ত—তারা কবে ঋণ পরিশোধ করবেন?

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান আগে নিজের ঘর থেকে শুরু হোক’

নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন। কিন্তু তার নিজের মন্ত্রিসভা ও দলে ঋণগ্রস্ত সংসদ সদস্য রয়েছেন। “বাংলাদেশের মানুষ জানতে চায়—তারা কবে ঋণ শোধ করবেন? দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার আগে নিজের ঘর, নিজের দল ও মন্ত্রিসভা থেকে প্রতিরোধ শুরু করা উচিত,”—বলেন তিনি।

নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে হতাশা, ‘আঞ্চলিক ভারসাম্য নেই’

নতুন মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, নির্বাচনের পর যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে, তা ‘নতুন বাংলাদেশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা’র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এতে পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

তার দাবি, ২৫টি জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি, যা স্পষ্ট আঞ্চলিক বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া মন্ত্রিসভার গড় বয়স ৬০ বছর উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।

‘৬২ শতাংশ মন্ত্রী ব্যবসায়ী, খেলাপিদের মন্ত্রিত্ব’

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, মন্ত্রিসভার প্রায় ৬২ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী হওয়া অপরাধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মন্ত্রিসভা প্রতিনিধিত্বমূলক হওয়া উচিত। কিন্তু অর্ধেকের বেশি যদি ব্যবসায়ী হন, তাহলে তারা ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী হবেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, এসব ব্যবসায়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির প্রায় ৬২ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি এবং তাদের মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।

‘বড় তিন মন্ত্রণালয়ে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী’

নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় বাজেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এমন একজনকে দেওয়া হয়েছে, যিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং হত্যা মামলার আসামি। “দলীয় গুরুত্ব নয়, আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবের কারণেই তাকে মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে,”—অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়ে প্রশ্ন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে নিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশ থেকে আনা বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো হয়েছিল দেশের স্বার্থে। তবে নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়ার ক্ষেত্রে ঐকমত্য থাকা উচিত ছিল। অন্যথায় জনমনে প্রশ্ন উঠবে—এমন মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করেন নাহিদ ইসলাম।

‘আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দলটির কার্যালয় খুলে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি প্রশাসন ও সরকারি দলের ‘প্রশ্রয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে সুযোগ দেওয়া উদ্বেগজনক।

এনএনবাংলা/