February 20, 2026
Friday, February 20th, 2026, 2:38 am

‘জখম বা হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারতে পারবে স্বামী, আফগানিস্তানে নতুন আইন

 

আফগানিস্তানে নারীদের বিরুদ্ধে ফের কঠোর আইন জারি করেছে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা কার্যত পারিবারিক সহিংসতাকে ‘বৈধতা’ দিচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মারধরের ফলে যদি স্ত্রীর ‘হাড় ভেঙে যায়’ বা দৃশ্যমান ‘জখম’ হয়, তাহলে স্বামী শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। তবে এমন অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে পারলেই কেবল দোষী সাব্যস্ত করা হবে। ইতোমধ্যে তালেবান সরকার ৯০ পৃষ্ঠার একটি নতুন দণ্ডবিধি জারি করেছে।

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নতুন এই দণ্ডবিধিতে স্বাক্ষর করেছেন। পশতু ভাষায় ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’ বা ‘আদালতের ফৌজদারি/দণ্ডবিধি সংক্রান্ত নিয়মাবলী’ শিরোনামের এই নথি আফগানিস্তানের বিভিন্ন আদালতে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। সংবাদমাধ্যমটি নথিটির একটি অনুলিপি পর্যালোচনা করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রমাণের দায় নারীর, আদালতে হাজিরায় পুরুষ অভিভাবক বাধ্যতামূলক

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো স্বামী ‘অতিরিক্ত মাত্রার শক্তি’ প্রয়োগ করে স্ত্রীর দৃশ্যমান জখম বা হাড় ভেঙে দিলে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে ভুক্তভোগী স্ত্রীকে আদালতে নির্যাতনের বিষয়টি সফলভাবে প্রমাণ করতে হবে।

এছাড়া নির্যাতিত নারীকে পুরোপুরি হিজাব পরা অবস্থায় বিচারকের সামনে তার জখম প্রদর্শন করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তার স্বামী অথবা প্রাপ্তবয়স্ক কোনো পুরুষ আত্মীয়কে আদালতে সঙ্গে থাকতে হবে বলেও বিধান রাখা হয়েছে।

স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়ের বাড়ি গেলে জেল

আইনে আরও বলা হয়েছে, বিবাহিত কোনো নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।

সামাজিক শ্রেণিভেদে শাস্তি নির্ধারণ

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন দণ্ডবিধিতে আফগান সমাজকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—উলামা (ধর্মীয় বিদ্বান), আশরাফ (অভিজাত), মধ্য শ্রেণি ও নিম্ন শ্রেণি। একই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা অপরাধের প্রকৃতি বা তীব্রতার ভিত্তিতে নয়, বরং অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

এনএনবাংলা/