রমজান মাসে ইফতারের টেবিলে তুলনামূলকভাবে বেশি ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাতীয় খাবার থাকে। অনেকেই মনে করেন, সারা দিন রোজা রাখার পর একটু বেশি চিনি খেলে তেমন ক্ষতি নেই। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি উল্টো। ইফতারে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তা হঠাৎ কমে গিয়ে আবারও তীব্র ক্ষুধা ও ক্লান্তি তৈরি করে। এই ওঠানামার চক্র থেকেই তৈরি হয় ‘সুগার ক্রেভিং’ বা মিষ্টি খাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা।
কেন বারবার মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করে
মানুষের মিষ্টির প্রতি অনুরাগ অনেকটাই জন্মগত। কার্বোহাইড্রেট মস্তিষ্কে সেরোটোনিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। পাশাপাশি চিনি খেলে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক প্রশান্তি দেয়। এই কারণেই আমরা বারবার মিষ্টির দিকে ঝুঁকে পড়ি।
তবে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। American Heart Association–এর মতে, একজন নারীর দৈনিক ৬ চামচ এবং পুরুষের ৯ চামচের বেশি চিনি খাওয়া উচিত নয়। অথচ বাস্তবে অনেকেই এর চেয়ে বেশি চিনি গ্রহণ করেন।
সুগার ক্রেভিং প্রতিরোধের তাৎক্ষণিক কৌশল
- অল্প মিষ্টি খান: মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা পুরোপুরি দমন না করে অল্প পরিমাণে খান। যেমন—এক টুকরো ডার্ক চকলেট বা একটি ছোট কুকিজ। এতে নিজেকে বঞ্চিত মনে হবে না, আবার আসক্তিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
- খাবার মিলিয়ে খান: শুধু মিষ্টি না খেয়ে তার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবার যোগ করুন। যেমন—চকলেটে চুবানো কলা বা চকলেট চিপসের সঙ্গে কিছু কাঠবাদাম। এতে পুষ্টি ও তৃপ্তি দুটোই মিলবে।
- ফলকে প্রাধান্য দিন: মিষ্টির বিকল্প হিসেবে আম, আঙুরের মতো প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি ফল বেছে নিন। ফলের আঁশ রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
- সক্রিয় থাকুন: হঠাৎ মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগলে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন বা জায়গা পরিবর্তন করুন। এতে মনোযোগ অন্য দিকে সরে যায়।
- পরিমাণ নয়, গুণগত মান: প্রচুর ক্যান্ডি বার না খেয়ে এক টুকরো উচ্চমানের ডার্ক চকলেট ধীরে ধীরে উপভোগ করুন। অনেক জিলাপি না খেয়ে বুট-মুড়ির সঙ্গে একটি জিলাপি ভাগ করে নিন।
- পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস: ইফতার ও সেহরিতে কী খাবেন, আগে থেকে পরিকল্পনা করুন। হুটহাট যা পাওয়া যায় তা খাওয়ার প্রবণতা কমালে সুগার ক্রেভিংও কমবে।
সুগার ক্রেভিং দমনে সহায়ক সেরা খাবার
- খেজুর: প্রাকৃতিক চিনি সমৃদ্ধ হলেও খেজুরে রয়েছে পর্যাপ্ত আঁশ ও পুষ্টি। ইফতারে তিনটি খেজুরই মিষ্টির চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট।
- ডিম: উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ ডিম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন সক্রিয় রাখে, ফলে অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমে।
- মিষ্টি আলু: জটিল শর্করা ও আঁশের উৎস। সেহরিতে মিষ্টি আলু থাকলে রক্তে শর্করা স্থিতিশীল থাকে।
- দই: চিনি ছাড়া দই বা ইয়োগার্ট ক্ষুধা ও ক্রেভিং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর।
- ডাল ও শিমজাতীয় খাবার: ডাল বা মসুর প্রোটিন ও আঁশের ভালো উৎস। দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।
- চিয়া সিডস: ওমেগা–৩ ও আঁশসমৃদ্ধ চিয়া সিডস পাকস্থলীতে জেলির মতো স্তর তৈরি করে, যা ক্ষুধা ও চিনির আকাঙ্ক্ষা কমায়।
- ফারমেন্টেড খাবার: টক দইয়ের মতো প্রোবায়োটিকস-সমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে, যা খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
বিশেষ সতর্কতা
চিনি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা এক দিনে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস, ধৈর্য এবং সচেতনতা। কৃত্রিম মিষ্টি এড়িয়ে চলা ভালো। সুস্থ অন্ত্র ও সুষম খাদ্যাভ্যাসই পারে দীর্ঘমেয়াদে মিষ্টির আসক্তি কমাতে।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
অর্ধশতাব্দী পর আগামী ৬ মার্চ আবারও চাঁদে যাচ্ছে মানুষ
লেবাননে ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলায় হিজবুল্লাহ কমান্ডারসহ নিহত ১২
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিটিভিতে দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা