ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগ চেয়ে আবেদন করেছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সরকার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ এই পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
উপাচার্যের পদত্যাগের পর ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শীর্ষ পদে কে আসতে পারেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাতজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের নাম ঘুরছে আলোচনায়। এর মধ্যে রয়েছেন দুইজন নারী শিক্ষকও।
আলোচনায় থাকা পাঁচ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক
উপাচার্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ঘিরে জোর আলোচনা চলছে। তারা হলেন—
- প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ
- পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম
- পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান
- ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান
- মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর সভাপতি। তিনি অতীতে সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং শিক্ষক অধিকার আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে চাকরি থেকে অব্যাহতি পান; পরে আদালতের নির্দেশে পুনর্বহাল হন।
অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপ-উপাচার্য। তিনি সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি ছিলেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান কলা অনুষদের ডিন এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান সাদা দলের বর্তমান আহ্বায়ক ও ইউট্যাবের মহাসচিব। তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি চাকরিচ্যুত হন এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে স্বপদে বহাল হন।
আলোচনায় দুই নারী শিক্ষক
উপাচার্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দুই নারী শিক্ষকের নামও আলোচনায় এসেছে।
অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়-এর বর্তমান উপ-উপাচার্য (প্রোভিসি)। তিনি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমদের কন্যা এবং সাদা দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
অন্যদিকে অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার (টফি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক। সমাজকর্ম ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে তিনি তিন দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত। তিনি ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশন-এর মহাসচিব। এছাড়া তিনি ইউট্যাব-এর প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ছিলেন।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাকে প্রায় তিন বছর চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। নব্বইয়ের দশকে তিনি ছাত্রদলের প্যানেল থেকে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাদা দলের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।
এছাড়া, ঢাবির উপাচার্য পদে নিয়োগে পেতে কিছুটা হলেও আলোচনায় আছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো মালয়েশিয়া
সোমবার ৫ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না ঢাকার যেসব এলাকায়
বাংলাদেশের বাজারে মার্কিন পণ্য দেখে খুশি রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন