যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি ও নতুন শুল্ক কাঠামো নিয়ে আরও পর্যালোচনার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিস্থিতিকে ‘বিকাশমান পরিস্থিতি’ (ইভলভিং সিনারিও) হিসেবে উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত কিছু পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তিত এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি ও নতুন শুল্ক কাঠামো নিয়ে করণীয় নির্ধারণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
আজ বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত আগের ধার্য করা ট্যারিফ ‘মেইন্টেনেবল’ নয় বলে ঘোষণা করেছে। এরপর প্রথমে সব দেশের জন্য ১০ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত নোটিফিকেশন পায়নি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিষয়টি কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল রয়েছে।
পূর্ববর্তী চুক্তি নিয়েও সতর্ক অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে এখনই মন্তব্য করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে নানা দিক রয়েছে—সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবদিক বিবেচনা করেই সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চুক্তি আলোচনার সময় কিছু নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) ছিল। বিষয়টি সংবেদনশীল এবং সংশ্লিষ্ট দেশটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ মুহূর্তে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা
শুল্ক ও চুক্তি প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের মতামত জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। কোন সেক্টরে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি ও বাজার তদারকি
বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে থাকা আমদানি পণ্যের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রমজান শুরুর আগে অনেকেই একসঙ্গে বেশি পরিমাণে বাজার করায় কিছু সবজির দাম সাময়িকভাবে বেড়েছিল।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ৪০–৫০ টাকার লেবু একসময় ১২০ টাকায় উঠেছিল, তবে পরে তা আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে এসেছে।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার আশ্বাস দিলেও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানি বন্ধ করল সৌদি আরব
গভর্নর পরিবর্তন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, প্রয়োজনবোধে এমন হতেই থাকবে: অর্থমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের