Wednesday, March 4th, 2026, 8:07 pm

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে এক মর্মান্তিক ঘটনায় সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ২২৬ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান ছুরিকাঘাতের পর একই কক্ষে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সমাজকল্যাণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন ওই বিভাগে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, পূর্বের সেই ক্ষোভ থেকেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, বুধবার বিভাগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন ছিল। বিকেল ৪টার দিকে বিভাগের সভাপতির কক্ষ থেকে চিৎকার শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে ছুটে যান। কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে ফেলেন।

ভেতরে প্রবেশ করে তারা আসমা সাদিয়া রুনার রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন এবং ফজলুর রহমানকে নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানাকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুজনকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ঈমাম শিক্ষিকা রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। ইসিজি করার পর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তার গলায়, হাতে ও পায়ে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষক রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “আজকের এ ঘটনা অকল্পনীয় ও অপ্রত্যাশিত। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এনএনবাংলা/