পাবনা প্রতিনিধি :
পাবনার চাটমোহর উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের খতবাড়ি গ্রামে খাসজমি স্থায়ী বন্দোবস্ত পাওয়া এক ব্যক্তির জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে শুকুর আলী ওরফে শুকলাল নামে এক বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে। অবৈধভাবে জমি দখলের পর থেকে ওই জমিতে গেলে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দিচ্ছে দখলকারী ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বেল্লাল হোসেন বাদি হয়ে শুকলাল সহ দশজনের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন।
অভিযোগে ও জমির সকল কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, চাটমোহর উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের খতবাড়ি মৌজার আর এস খতিয়ান নং ১ এবং আর এস দাগ নং ১০৭৮ এর ৬৬ শতাংশ খাসজমি ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক পাবনা থেকে ভূমিহীন হিসেবে স্থায়ী বন্দোবস্ত পেয়ে ভোগ দখল করে আসছিলেন একই ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের বেল্লাল হোসেন। সেই জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল খতবাড়ি গ্রামের শুকুর আলী ওরফে শুকলাল, শাহা আলম, আয়নাল গংদের সাথে।
সেই বিরোধের জেরে গত ৪ মার্চ সকালে ওই জমিতে থাকা বেল্লাল হোসেনের একটি দোকান ঘর ভাঙচুর করে দোকানে থাকা মালামাল লুট করে নেয় শুকলাল গং। তারপর থেকে তারা ওই জমিতে গেলে বেল্লাল হোসেনকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। এ ঘটনায় চাটমোহর থানায় ওইদিন রাতে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন বেল্লাল হোসেন।
এ ঘটনায় গত ৫ মার্চ দুপুরে ঘটনাস্থলে সরেজমিন ঘুরে প্রতিবেদন করতে যান এ প্রতিবেদক সহ দুজন সংবাদকর্মী। তারা সেখানকার ছবি ভিডিও ধারণ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলার সময় খবর পেয়ে কিছু লোকজন নিয়ে সেখানে হাজির হন বিএনপি কর্মী শুকুর আলী ওরফে শুকলাল। তারা সংবাদকর্মী দু’জনের কাজে বাধা দেন এবং তাদের অনুমতি ছাড়া কেন ছবি তোলা হচ্ছে ভিডিও করা হচ্ছে বলে চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাদের সাথে কথা বলে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে শুকুর আরী ওরফে শুকলাল বলেন, ‘এই জমি খাস নয়, মালিকানাধীন কেনা জমি। ১৯৯০ সালের দিকে খতবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামের খবির হাজির ছেলে নুরুল হাজির কাছ থেকে ২৩ শতাংশ জমি কিনেছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, জমি কেনার পর থেকে তিনি ভোগ দখল করছিলেন। ২০০৮ সালের দিকে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বেল্লাল হোসেন আওয়ামীলীগের ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে এই জমি জোর করে দখল করে নিয়েছিলেন। সেসময় এলাকার একটি হত্যা মামলায় আমাদের আসামি করায় পলাতক ছিলাম। জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে এসে দেখি আমার জমি দখল করে নিয়েছে বেল্লাল।’
নিজে বিএনপি করেন আর বেল্লাল আওয়ামী লীগ করে দাবি করে শুকুর আলী বলেন, ‘এই জমির সাতজন অংশীদার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামীলীগ দেশ ছেড়ে পালানোর পর আমি তাকে বলি আমার জমি ছেড়ে দিতে। সম্প্রতি কিছুদিন আগে বেল্লাল তার দোকান বিক্রি করে দিয়ে এখান থেকে সরে গেছে। আমার জমি জোর করে দখল করতে যাবে কেন। বরং সেই এত বছর জবর দখল করে রেখেছিল। জমির দলিল দেখতে চাইলে তিনি দেখাবেন বলে জানালেও পরে আর জমির কাগজপত্র দেখাননি। মোবাইল নাম্বার দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর কথা বলে আসলেও তিনি আর পাঠাননি।’
ভুক্তভোগী বেল্লাল হোসেন বলেন, ’আমি এত বছর ধরে জমি ভোগ দখল করে আসছি, কেউ কখনও বাধা দেয় নাই। আমার বন্দোবস্তের সকল কাগজপত্র দলিল সব আছে। আমার নামে বন্দোবস্ত হওয়ার পর সেটি আমার নামে নামজারি করে খারিজ করা হয়েছে। শুকলাল গংরা জেলা প্রশাসক, রাজশাহী বিভাগী কমিশনার অফিসে তিনবার অভিযোগ দিয়ে মামলা করে হেরে যায়। আমি তিনবারই আমার পক্ষে ডিগ্রি (রায়) পাই। তাদের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ বা দলিল নাই। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জোর করে জমি দখল করে নিয়েছে। আমি আওয়ামীলীগ করতাম সেটাই আমার অপরাধ। আমি এর ন্যায়বিচার চাই। তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা চাই।’
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
চাটমোহর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভারপ্রাপ্ত মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, ‘এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে কাগজপত্র যাচাই বাছাই ও তদন্ত করে বলতে পারবো ওই জমির বিষয়ে কার কি অবস্থান। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।’


আরও পড়ুন
কয়রায় উপকূলে দুর্যোগের প্রভাবের সাথে বসবাস
কালকিনিতে অনিয়মের অভিযোগে দুটি ক্লিনিককে শাস্তি প্রদান
হাকালুকি হাওরে পাখির সংখ্যা বেড়েছে