Tuesday, March 10th, 2026, 1:22 pm

রাইড শেয়ারিং বাইকে দিনে ৫ লিটার তেল দেওয়ার নির্দেশ

 

রাইড শেয়ারিং সেবায় যুক্ত মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল সরবরাহের নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি এ নির্দেশনা জারি করে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার সাধারণ মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার তেল নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে রাইড শেয়ারিং চালকদের পেশাগত প্রয়োজন বিবেচনায় চার দিন পর তাদের জন্য এই সীমা বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়েছে।

বিপিসির নতুন নির্দেশনায় জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও চালকের ব্যক্তিগত তথ্য সংশ্লিষ্ট রাইড শেয়ারিং অ্যাপের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করতে হবে।

এছাড়া তেল কেনার সময় ফিলিং স্টেশন থেকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ থাকা রসিদ সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবার তেল নিতে গেলে আগের তেলের রসিদের মূল কপি জমা দিতে হবে, অন্যথায় তেল সরবরাহ করা হবে না।

জ্বালানি আমদানির বিষয়ে বিপিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিদেশ থেকে নিয়মিতভাবে তেল দেশে আনা হচ্ছে। প্রধান স্থাপনাগুলো থেকে রেলওয়ে ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে ধারাবাহিকভাবে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

গত শুক্রবার ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি বিক্রির যে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেখানে ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারের জন্য ১০ লিটার এবং এসইউভি বা মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার অকটেন নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে ডিজেলচালিত বাসের ক্ষেত্রে ৭০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত আলাদা সীমা নির্ধারণ রয়েছে।

এদিকে রাজধানীর শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে তেল নিতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক স্টেশনে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল দেওয়ার কারণে চালকদের মধ্যে অসন্তোষও তৈরি হয়। বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং চালকদের আয়ের প্রধান মাধ্যম মোটরসাইকেল হওয়ায় তাদের জন্য জ্বালানির সীমা বাড়ানোর দাবি উঠেছিল।

বিপিসি জানিয়েছে, অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের এই পদ্ধতি কার্যকর হলে প্রকৃত পেশাদার চালকরাই বর্ধিত সুবিধা পাবেন। সরকারের আশা, এই সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে চাপ কমবে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগও হ্রাস পাবে।

এনএনবাংলা/পিএইচ