সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন জানিয়েছেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত সুবিধাভোগীদের সমন্বিতভাবে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রোববার সংসদের মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে অংশগ্রহণকালে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এর অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন।
বিএনপি সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ চৌধুরী’র সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণে নানা ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়, যা একেবারেই দুর্নীতি। আমরা সরবরাহ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করতে চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড নামে বড় একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে সমস্ত সুবিধাভোগীকে এক পরিবারের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আমরা চাই, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধন ও সুবিধাভোগীদের উপকার নিশ্চিত করার জন্য এক সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
নোয়াখালী-২ আসনের জয়নাল আবেদীন ফারুক এর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা হাতে থাকা তালিকাগুলো যাচাই করছি। পূর্ববর্তী সরকারে যে তালিকাগুলোতে অনিয়ম ঘটেছিল, তা বিবেচনা করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদেরই নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হবে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরী’র প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অতীতে তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতির প্রভাব ছিল। বর্তমানে আমরা যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভাতা পাওয়ার যোগ্য প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি।
জামায়াতে ইসলামীর সদস্য আতাউর রহমান’র সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সকল ধরনের স্বজনপ্রীতি ও বন্টন পর্যায়ের অনিয়মের ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সমতা বজায় রেখে সুবিধাগুলো প্রদান করার চেষ্টা চলছে।
৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন সংসদে জানিয়ে বলেন, দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ সম্পর্কিত কিছু জটিলতা রয়েছে, তবে আশা করা হচ্ছে শিগগিরই এটি সমাধান করা হবে। শিক্ষক নিয়োগে ইসলামের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের শিক্ষকদেরও প্রাধান্য দেওয়া হবে।
এনসিপি সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ’র সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি চালু করেছিল যা যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মতভাবে ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলো সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণে এনে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া ইবতেদায়ী ও কওমী শিক্ষাসহ সকল শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত শিক্ষার আওতায় আনার কাজ চলমান।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও এমপিওভুক্তি
শিক্ষামন্ত্রী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং সরকারের মূল লক্ষ্য এগুলোর মানোন্নয়ন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির জন্য নতুন করে আবেদন আহ্বান করা হবে, এবং পুরাতন আবেদনগুলো পুনঃযাচাই করা হবে।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
নাগরিকদের সৌদি আরবসহ ১২ দেশ ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করার আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সিটি কর্পোরেশনের প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে ঈদ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী