পবিত্র ঈদুল ফিতর যখন সমাগত, ঠিক সেই সময় দেশবাসীকে দারুণ এক রোমাঞ্চকর জয় উপহার দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদরা। উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ১১ বছর পর সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসছে বাংলাদেশ। ঈদের আগেই যেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বিশেষ উপহার এনে দিল টাইগাররা।
১১ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়
সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ২৯১ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। জবাবে শুরুতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধাক্কা দেন বাংলাদেশের পেসাররা। শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ১১ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। এতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় স্বাগতিকরা।
এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে টানা সিরিজ জয়ের নজিরও গড়ল বাংলাদেশ। সবশেষ ২০১৫ সালে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা।
শুরুতেই চাপে পাকিস্তান
২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দাপুটে বোলিংয়ে মাত্র ১৭ রানেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে (৬) ফেরান তাসকিন। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে (৬)। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৪) ফেরান তাসকিন আহমেদ।

সালমান আগার লড়াই
দলের বিপর্যয়ের সময় হাল ধরার চেষ্টা করেন গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ। তবে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তারা। ঘুরি ৩৯ বলে ২৯ এবং সামাদ ৪৫ বলে ৩৪ রান করে আউট হন।
একশর আগেই ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তানকে টেনে তোলেন সালমান আলি আগা। তাকে সঙ্গ দেন সাদ মাসুদ। দুজনের জুটিতে আসে ৭৯ রান। তবে ৩৮ রান করা মাসুদকে মুস্তাফিজুর রহমান বোল্ড করলে ভেঙে যায় সেই জুটি।
এরপর ফাহিম আশরাফকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও তাসকিন আহমেদের বলে ৯ রান করে আউট হন ফাহিম।
শতক করেও দলকে জেতাতে পারলেন না সালমান
একপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান সালমান আলি আগা। অর্ধশতকের পর তুলে নেন দুর্দান্ত একটি শতকও। দলকে জয়ের খুব কাছেও নিয়ে যান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ১০৬ রান করে তাসকিনের শিকার হন এই ব্যাটার।
শেষদিকে শাহিন শাহ আফ্রিদি ৩৭ রান করে কিছুটা আশা জাগালেও পাকিস্তানের ইনিংস থামে ২৭৯ রানে। ফলে ১১ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার তাসকিন আহমেদ, তিনি একাই নেন চারটি উইকেট। মুস্তাফিজুর রহমান নেন তিনটি উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা দুটি ও রিশাদ হোসেন একটি উইকেট নেন।

তানজিদ তামিমের অভিষেক সেঞ্চুরি
এর আগে মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি।
ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৫ রান। ইনিংসের ১৯তম ওভারে ৩৬ রান করে আউট হন সাইফ হাসান।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ২৭ রান করে ফেরেন। তবে দারুণ এক ইনিংস খেলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ১০৭ বলে ১০৭ রানের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা।
মাঝের জুটি ও শেষের ঝড়
চতুর্থ উইকেটে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় মিলে ৬৮ রানের জুটি গড়েন। লিটন দাস ৪১ রান করে আউট হন। এরপর তাওহীদ হৃদয় ৪৪ বলে ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। আফিফ হোসেন ৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে তোলে ২৯০ রান।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন হারিস রউফ। আবরার আহমেদ ও শাহিন শাহ আফ্রিদি নেন একটি করে উইকেট।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
প্রকাশ্যে গুলি করে শহীদ মিনারে যুবককে হত্যা, আটক ১
রাজধানীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু
মৃত্যুর গুঞ্জনের জবাবে ভিডিওতে হাতের পাঁচ আঙুল দেখালেন নেতানিয়াহু