Tuesday, March 17th, 2026, 3:43 pm

সব ইউনিটকে বলেছি, অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস নয়: আইজিপি

 

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে দেশের সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা অন্যায়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না—বাংলাদেশ পুলিশ এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বহির্গমনপথ গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রাপথে নানা ভোগান্তি দেখা যায়। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে অপেক্ষা করতে হয়, আবার কেউ কেউ আগেভাগে রওনা দিয়েও সময়মতো বাড়ি পৌঁছাতে পারেন না। এসব সমস্যা কমাতে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যানজট নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ট্রাফিক ও সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বড় বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। এসব স্থানে পুলিশের উপস্থিতির পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে যানজট কমানোর চেষ্টা চলছে। ড্রাইভার ও হেলপারদের অনেকেই কম শিক্ষিত হওয়ায় ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা কম—তাদেরও নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। সামান্য সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই যানজট কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে উল্লেখ করেন আইজিপি।

টার্মিনাল এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার কিছু নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে এবং মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের মতো অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ইউনিটকে সক্রিয় রাখা হয়েছে।

রাজধানীর ভেতরে অবৈধ বাস কাউন্টার বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকার মধ্যে দূরপাল্লার বাস কাউন্টার থাকতে পারবে না—এ বিষয়ে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব অপসারণ করা হবে।

অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার পরও যাত্রীরা অভিযোগ না করার প্রবণতা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, আইন জানা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। ‘জানতাম না’—এই অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। সবার উচিত দেশের প্রচলিত আইন সম্পর্কে সচেতন থাকা।

পরিদর্শনকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এনএনবাংলা/পিএইচ