পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথে যাত্রী চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ঈদের আগে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে উত্তরাঞ্চলমুখী রুটগুলোতে—বিশেষ করে সৈয়দপুর ও রাজশাহী। পাশাপাশি যশোর রুটেও টিকিটের উচ্চ চাহিদা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ঈদের পরপরই পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার হয়ে উঠছে যাত্রীদের প্রধান গন্তব্য।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার এবং এয়ার অ্যাস্ট্রা দেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার যাত্রী
এয়ারলাইনস সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করছেন। ঈদ সামনে রেখে ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে টিকিটের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে ওয়ানওয়ে টিকিটের দাম ৮ হাজার টাকারও বেশি।
যশোর ও রাজশাহী রুটেও টিকিট প্রায় শেষ। এছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রী কিছুটা বেশি।
ঈদের পর কক্সবাজারমুখী যাত্রীর ঢল
ঈদের পর ২২ মার্চ থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রী চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এই রুটে টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ১১ হাজার ২৪৯ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। সিলেটগামী টিকিট ৪ হাজার ৬৯৯ টাকা থেকে শুরু হলেও সেখানেও চাহিদা বাড়ছে।
১৭–২৮ মার্চ: অধিকাংশ ফ্লাইটের আসন পূর্ণ
এয়ারলাইনসগুলোর তথ্য বলছে, ১৭ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত প্রায় সব ফ্লাইটের আসন পূর্ণ। অনেক যাত্রী আগেভাগেই টিকিট বুক করায় শেষ মুহূর্তে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০ বা ২১ মার্চ দেশে ঈদ উদযাপিত হবে। শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে এবার সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন। ফলে যাত্রীরা ধাপে ধাপে ঢাকা ছাড়ছেন, কোনো নির্দিষ্ট দিনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়নি।
বিশেষ ফ্লাইট যুক্ত করেছে বিমান
রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-সৈয়দপুর ও ঢাকা-রাজশাহী রুটে বিশেষ ফ্লাইট চালু করেছে। তবে অধিকাংশ ফ্লাইট ইতোমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গেছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের আগে সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহী রুটে চাহিদা সর্বোচ্চ। তবে ঈদের পরপরই কক্সবাজারমুখী যাত্রী বাড়বে—একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রার ক্ষেত্রেও।
বাড়ছে অভ্যন্তরীণ পর্যটন
ট্রাভেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক রুটে আগ্রহ কিছুটা কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিমান ভাড়া-হোটেল খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই দেশের ভেতরেই ভ্রমণ পরিকল্পনা করছেন। ফলে কক্সবাজার, সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে প্যাকেজ বুকিং বেড়েছে।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
অভিনেতা শামস সুমন আর নেই
পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে বিএনপি সরকার: কৃষিমন্ত্রী