মুরাদনগর(কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
শেয়ার জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় কুমিল্লা-৩, সাবেক মুরাদনগর আসনের সংসদ সদস্য, এফবিআইয়ের সাবেক সভাপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এফসিএ বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু বকর সিদ্দিক গত(সোমবার (১৬ মার্চ) এ পরোয়না
জারির আদেশ দেন। গ্রেফতারি পরোয়ানাটি কার্যকর করার জন্য ঢাকার বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাছে পাঠানো হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইনকনট্রেড লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডার আমিরুল হকের পক্ষ মুশফিক আল মাসিন মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে বাদী ও তার স্ত্রী কোম্পানির মোট ২ হাজার ৩০০ শেয়ারের বিপরীতে ৫০০ শেয়ারের মালিকানা অর্জন করেন। কিন্তু পরে ২০০৭ ও ২০০৯ সালে কোম্পানির শেয়ার বৃদ্ধি করা হলেও বাদী ও তার স্ত্রীকে সে বিষয়ে অবহিত করা হয়নি।
পুলিশ ব্যারো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে উল্লেখ্ করা হয়। কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ের নোটিশ না দিয়েই জাল রেজুলেশন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বৃদ্ধি করা হয় এবং সেই শেয়ার এককভাবে নিজের নামে বরাদ্দ নেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এফসিএ।
তদন্তে আরও জানা যায়, দুই ধাপে কোম্পানির শেয়ার মূলধন বাড়ানো হয়, প্রথমে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৭টি এবং পরে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৫৩৩ টি শেয়ার যোগ করা হয়। এর মাধ্যমে ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন প্রায় ৯ লা৯৮ হাজার ৫০০ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ লাভ করেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
পিবিআই তাদের প্রতিবেদনে দন্ডবিধির ৪০৬,৪২০,১০৯,৬০৬ ও ৩৪ ধারায় অপরাধ সংঘটনের প্রমান পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহসিন সরকার ও এই অনিয়মে জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পরই বিচারক ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। কুমিল্লা-৩, সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন ব্যবসা ও রাজনীতিে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন এবং ১৯৯৮ ও ২০০৩ সালে এফবিসিসিআইর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি এশিয়া ইন্সুইরেন্স লিমিটেডেী চেয়ারম্যান হিসেবে ও দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনের তিনি কুমিল্লা-৩, মুরাদনগর আসন থেকে ১০৯৬,২০০১ সালে সংসদ নির্বাচন করে পরাজিত হয়। ২০১৪ সাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে আ’লীগের নৌকা প্রতিক প্রার্থী হিসেবে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে নৌকা প্রতিক প্রার্থী হিসেবে পুনরায় নির্বাচন করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী কাছে হেরে গিয়ে মুরাদনগর আসন ত্যাগ করেন।


আরও পড়ুন
ট্রেন যাত্রীদের নিরাপত্তায় বড়ালব্রিজ স্টেশনে আনসার-ভিডিপি মোতায়েন
রসিকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের টাকা পেলেন ৮৫৫ পরিচ্ছন্নতা কর্মী
পূর্ব শক্রতা ও নির্বাচনে জালভোটের জেরে নাসিরনগরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত