Thursday, March 19th, 2026, 4:25 pm

কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দামে উল্লম্ফন

 

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। একইসঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে এবং দামের ঊর্ধ্বগতি আরও তীব্র হতে পারে।

তেলবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভান্দা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ওমান ও দুবাইভিত্তিক অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ইতোমধ্যে ১৫০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কিছু ক্ষেত্রে তেলের দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।

তিনি আরও বলেন, তেলের দাম ভবিষ্যতে কতটা বাড়বে তা মূলত নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি কতদিন অচল থাকে তার ওপর।

এদিকে, কাতারের প্রধান এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফানে ইরানের দুই দফা হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর প্রভাব ইতোমধ্যে ইউরোপীয় বাজারে পড়েছে। ইউরোপের গ্যাসের দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ইউরোপীয় বেঞ্চমার্ক ডাচ টিটিএফ প্রাকৃতিক গ্যাসের চুক্তিমূল্য একপর্যায়ে ৭৪ ইউরোতে পৌঁছালেও পরে কিছুটা কমে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও বড় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

এনএনবাংলা/