ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা ঢাকামুখী মানুষের চাপ বাড়ায় যমুনা সেতু ও এর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
সেতুর উপর দিয়ে ঢাকাগামী যান চলাচল ব্যাহত হলে এর প্রভাব দ্রুত পশ্চিম অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ, মুলিবাড়ি চেকপোস্ট ও কড্ডার মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় যানজট দেখা দেয়।
ঢাকামুখী যাত্রী মনোয়ার হোসেন জানান, সকাল ৬টায় যাত্রা শুরু করেও যমুনা সেতু পার হতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগে, সেখানে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে।
কর্ডা ট্রাফিক ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতুর উপর ও পূর্ব প্রান্তে যান চলাচল ধীরগতির কারণে পশ্চিম অংশেও এর প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ থাকায় যানজট তীব্র হয়েছে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, সকাল ১০টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও দুপুরের পর আবার যানজট বাড়তে থাকে। যানজট নিরসনে পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও সেতু কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় যানজট না থাকলেও সেতুর পশ্চিম প্রান্তে চাপ অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রিত সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজউদ্দিন বলেন, উত্তরাঞ্চল থেকে ছয় লেনের সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহন এলেও সেতুর ওপর ঢাকামুখী মাত্র দুই লেন দিয়ে গাড়ি পারাপার হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই যানজট তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩৭ হাজার যানবাহন সেতু পার হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আরও প্রায় ২২ হাজার যানবাহন পারাপার করেছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, ঈদ-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের চাপ মোকাবিলায় উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প পরিকল্পনা প্রয়োজন।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
তেল সরবরাহ স্বাভাবিক, তবে কালোবাজারির প্রভাব আছে: জ্বালানিমন্ত্রী
কুমিল্লার দেবীদ্বারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩
‘সরকার বলছে সংকট নেই, কিন্তু পাম্পে পাওয়া যাচ্ছে না তেল’: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ