Saturday, March 28th, 2026, 6:59 pm

রামেক পরিচালককে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 

ভেন্টিলেটরের অভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজশাহী মেডিকেলে ১১ দিনে ৩৩ জন শিশুর মৃত্যু হলেও সেখানে ভেন্টিলেটর সংকটের বিষয়টি হাসপাতালের পরিচালক তাকে আগে জানাননি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, ‘তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসার নৈতিকতা (মেডিকেল এথিকস) বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, তিনি ফোন করে খোঁজ নেওয়ার পর হাসপাতালের পরিচালক প্রথমে দাবি করেছিলেন, গণমাধ্যম বিষয়টি অতিরঞ্জিত করছে। তবে পরে যখন প্রতিবেদন হাতে আসে, তখন দেখা যায় গণমাধ্যমের তথ্যই সঠিক ছিল এবং পরিচালক আর বিষয়টি অস্বীকার করতে পারেননি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারি প্রক্রিয়ায় দ্রুত ভেন্টিলেটর কেনা সবসময় সহজ নয়। তাই তিনি ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবহার করে কয়েকজন ওষুধ প্রস্তুতকারকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের সহযোগিতায় জরুরি ভিত্তিতে তিনটি ভেন্টিলেটর কেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা সরকারি অর্থে নয় বরং বেসরকারি উদ্যোগে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, একইভাবে আরও দুটি ভেন্টিলেটর সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।

চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও দায়িত্ব সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর ঈশ্বরের মতো আস্থা রাখেন। তাই চিকিৎসকদের আচরণ, কথাবার্তা ও সেবার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি বলেন, প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে দেখা যায় অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর শরীরের ভেতরে সুতা বা অন্যান্য সামগ্রী রয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা পরে রোগীর কষ্টের কারণ হয়। এসব ভুল অনেক সময় চিকিৎসকদের অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে পুলিশের হামলায় তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে দেশের অনেক চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে পরে তিনি ভারতে গিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন এবং বিশেষ ধরনের জুতা (অর্থোপেডিক শু) ব্যবহার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

নতুন নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে আপডেট থাকতে চিকিৎসকদের নিয়মিত পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত জ্ঞান অর্জন করতে হবে, প্রবীণ চিকিৎসকদের কাছ থেকে শিখতে হবে এবং বিশ্বের নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে নিয়মিত মেডিকেল জার্নাল পড়তে হবে।

এ সময় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ঢাকা নর্থ এলাকায় কর্মরত এক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে—নারী রোগীরা গেলে তিনি রোগের কথা শোনার পরিবর্তে ব্যক্তিগত গল্প করতেন ও গান গাইতেন, যা চিকিৎসা নৈতিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এনএনবাংলা/পিএইচ