Sunday, March 29th, 2026, 1:32 pm

নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশিরা

 

নিশ্চিত মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও থামছে না রাবারের নৌকায় বাংলাদেশিদের ইউরোপগামী অবৈধ যাত্রা। সবশেষ লিবিয়া থেকে রাবারের নৌকায় ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে গ্রিস উপকূল থেকে চার বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জে বলে জানা গেছে।

ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্স-এর মার্চ মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে রাবারের নৌকায় করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করেছেন ৩ হাজার ৩৯৫ জন অবৈধ অভিবাসী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বিভিন্ন অবৈধ পথে মোট প্রায় ১২ হাজার অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। এ সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫২ শতাংশ কম হলেও সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় মৃত্যুর হার আগের তুলনায় বেড়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে প্রায় ৬৬০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। খারাপ আবহাওয়া ও অনিরাপদ নৌযান ব্যবহারের কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় পথই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এই রুট দিয়েই মোট অবৈধ অভিবাসীর প্রায় ৩০ শতাংশ ইউরোপে প্রবেশ করেন, বিশেষ করে ইতালি ও গ্রিসে।

বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ লিবিয়া ও তিউনিসিয়া হয়ে এই পথ ব্যবহার করে ইতালি ও গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টা করেন। শনিবার (২৮ মার্চ) গ্রিস সীমান্তের একটি দ্বীপের পাশ থেকে ২১ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে গ্রিস কোস্টগার্ড। এই পথে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আফগান ও আলজেরীয় নাগরিকও ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, খারাপ আবহাওয়ার কারণে ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে নৌপথে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে ইউরোপমুখী অভিবাসনের ঢল বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে পশ্চিম আফ্রিকা রুট দিয়েও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবৈধ অভিবাসীর প্রবেশ ৮৩ শতাংশ কমেছে। পূর্ব-মধ্য রুটে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ জন প্রবেশ করলেও এটি আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম। পশ্চিম ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের প্রবেশ নথিভুক্ত হয়েছে।

এছাড়া পূর্ব বলকান স্থল সীমান্ত দিয়েও প্রবেশ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পথে মাত্র ১৯৬ জনের প্রবেশ রেকর্ড করা হয়েছে।

ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তে ৩ হাজারের বেশি সীমান্তরক্ষী মোতায়েন রয়েছে। সংস্থাটি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সমুদ্রে জীবন রক্ষা এবং বিপদগ্রস্ত অভিবাসীদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ