Tuesday, March 31st, 2026, 3:41 pm

দেশে জ্বালানির সংকট নেই, এপ্রিল মাসে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: যুগ্মসচিব

 

দেশে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের সংকট নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এপ্রিল মাসেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং গত বছরের তুলনায় সরবরাহ কমবে না বলে তিনি জানান।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, মার্চ মাসে যেভাবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে, এপ্রিল মাসেও একই ধারা বজায় থাকবে। জনগণ স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ক্রয় করলে কোনো ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।

তিনি জনগণকে অপ্রয়োজনীয় মজুদ ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার দিনরাত কাজ করছে যাতে জ্বালানি খাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়। একই সঙ্গে সবাইকে সাশ্রয়ীভাবে জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকার বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করে যাচ্ছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহে সরকার-টু-সরকার পদ্ধতির পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্র ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরবরাহ চেইন সচল রাখতে অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি ও ক্রয় কমিটিতে একাধিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এসব প্রস্তাব অনুমোদন পেলে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি পাচারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। তবে সরকার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি একে ‘মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও আতঙ্কজনিত কেনাকাটার কারণেই অনেক সময় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

এলপিজি সরবরাহ নিয়েও তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, মার্চ মাসে দেশে প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৪ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যেখানে গড় মাসিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। ফলে এ খাতে কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতেও মন্ত্রণালয় কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিকল্প উৎস থেকে আমদানি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে রেশনিং ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালুর কাজ চলছে, যা পরীক্ষামূলকভাবে শিগগিরই কয়েকটি স্থানে চালু করা হবে। পাশাপাশি কিছু জেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।

মজুদ সংক্রান্ত তথ্যের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় দুটি পদ্ধতিতে হিসাব করে—ব্যবহারযোগ্য মজুদ এবং ‘ডেড স্টক’সহ মোট মজুদ। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য মোট মজুদের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, আর তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য যে অংশ রয়েছে তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়। তাই তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই।

মজুদদারির বিষয়ে তিনি বলেন, কে কী উদ্দেশ্যে জ্বালানি মজুদ করছে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ