বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় দেশের মহানগর এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে (সরকারি ও বেসরকারি) সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীরে ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও শিক্ষক নেতারা।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের মতো (বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া) প্রাথমিক পর্যায়েও ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে ক্লাস চালুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইন (সশরীরে) ক্লাস নেওয়া হতে পারে।
এছাড়া জোড়-বিজোড় তারিখের ভিত্তিতে ক্লাস পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে অনলাইন ক্লাস নেবেন এবং ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) ক্লাসগুলো সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।
তবে এ সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে আলোচনা এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় মহানগরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মহামারি চলাকালে ২০২০ সালের মার্চে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে অনলাইনে পাঠদান শুরু হয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক এই সংকট কতদিন চলবে তা অনিশ্চিত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে অনলাইন ও সশরীরে—দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক এক জরিপে ৮৫ শতাংশ মানুষ অনলাইন ক্লাসের পক্ষে মত দিয়েছেন, তবে পুরোপুরি অনলাইন হলে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এনএনবাংলা/

আরও পড়ুন
সরকারি চাকরিতে প্রায় পৌনে ৫ লাখ পদ শূন্য: সংসদে তথ্য
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ২৩,৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে: আইনমন্ত্রী
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ বাংলাদেশি বন্দি, মানবপাচার ও নির্যাতনের শিকার